শাবি প্রতিনিধি::
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) রসায়ন বিভাগের স্নাতক ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অর্ণব মহালদার। স্নাতকের নির্ধারিত ক্রেডিটের সাত ক্রেডিট বাকি থাকায় তার সহপাঠীরা স্নাতক শেষ করে স্নাতকোত্তরে ভর্তি হলেও তিনি এখনো স্নাতকোত্তরে উঠতে পারেননি। এজন্য করোনাকালীন সময়ে প্রকাশিত চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করতে পারেননি। এমন পরিস্থিতিতে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন তিনি। ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরাও স্নাতক শেষ বর্ষে এসে একইরকম সমস্যায় পড়তে যাচ্ছেন।
শিক্ষার্থী অর্ণব মহালদার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম থেকেই আমাকে টিউশনি করে চলতে হয়েছে। আমি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই তখন আমার মা মারা যান। পরে তৃতীয় বর্ষে থাকাকালীন আমার বাবা স্ট্রোক করেছিলেন। এই কঠিন সময়ে আমাকে পরিবার এবং নিজের পড়াশোনা সবই সামলাতে হচ্ছিল। তখন অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও হতাশায় কিছু কোর্স ড্রপ পড়ে। শেষমেশ অনেক চেষ্টা করেও সাত ক্রেডিট উঠাতে পারিনি। ভাবছিলাম পরবর্তী সেমিস্টারে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাকি কোর্স তুলে নেবো। কিন্তু করোনার কারণে ক্যাম্পাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরবর্তী সেমিস্টারের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। কবে খুলবে ক্যাম্পাস? কবে হবে পরীক্ষা? তার কিছুই জানি না। এর মাঝে বেশকিছু চাকরির পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। দিন যতই যাচ্ছে আমার মানসিক চাপ আরও বাড়ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই পরিস্থিতি শুধু অর্ণবের নয়। অধিকাংশ বিভাগে অর্ণবের মতো গড়ে দুই-চারজন শিক্ষার্থী আছেন, যাদের অল্প কিছু ক্রেডিটের জন্য স্নাতক শেষ হয়নি। ফলে তারা চাকরির পরীক্ষায় আবেদনের সুযোগ পাচ্ছেন না।
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরাও একই সমস্যায় পড়তে যাচ্ছেন। করোনার কারণে ক্যাম্পাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার কিছুদিন পর থেকে শাবিতে অনলাইনে ক্লাস চলছিল। ইতিমধ্যে প্রথম সেমিস্টারের ক্লাস শেষ হয়েছে, দ্বিতীয় সেমিস্টারের ক্লাসও শেষ পর্যায়ে। অনলাইনে ক্লাস টেস্ট পরীক্ষা চললেও ফাইনাল পরীক্ষা নিয়ে অনেকটা দুশ্চিন্তায় এবং সেশনজটের আশঙ্কায় আছেন শিক্ষার্থীরা।
লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তারিফুল ইসলাম রুমেল সমকালকে বলেন, ক্যাম্পাসে কোনো সেশনজট ছিল না। সে হিসেবে আমাদের ডিসেম্বরের মধ্যেই সব শেষ হয়ে যাবার কথা ছিল। কিন্তু করোনার কারণে এটা এখন দুশ্চিন্তার কারণ হয়েছে। সামনে যতো চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি আসছে ততই হতাশা বাড়ছে।
শাবি উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, এ বিষয়ে আমি এককভাবে কিছু বলতে পারছি না। আমরা একাডেমিক কাউন্সিলে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেবো। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের যেন ক্ষতি না হয় সে বিষয়গুলো দেখবো এবং তাদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার বিষয়টিও আমাদের ভাবতে হবে।
এমএ




