থার্ডআই ডেস্ক:

ইসরায়েলি স্পাইওয়্যার ‘পেগাসাস’ ব্যবহার করে বিশ্বজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের স্মার্টফোনে আড়িপাতার বড় একটি ঘটনা ফাঁস হয়েছে। বিশ্বের অন্তত ৪৫টি দেশের নাগরিক এই আড়িপাতার শিকার হয়েছেন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানসহ ১৭টি সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণে ভয়াবহ এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, ফাঁস হওয়া তালিকায় কাদের নম্বর রয়েছে, তা ভবিষ্যতে প্রকাশ করা হবে।

এই ব্যক্তিদের মধ্যে শত শত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নির্বাহী, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, একাডেমিক, এনজিও কর্মী, সরকারি কর্মকর্তা, মন্ত্রিসভার সদস্য, প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীরা রয়েছেন। একটি দেশের শাসকের পরিবারের সদস্যদের নম্বরও রয়েছে।

ওয়াশিংটন পোস্ট এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, ৪৫টি দেশের ফোন নম্বর পাওয়া গেছে ওই তালিকায়, তার মধ্যে ১ হাজারের বেশি নম্বর ইউরোপের দেশগুলোর। এই তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশও।

এনডিটিভি’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলভিত্তিক গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘এনএসও গ্রুপ’ আলোচিত স্পাইওয়্যার ‘পেগাসাস’-এর উদ্ভাবক। ধারণা করা হয়, ২০১৬ সাল থেকে ‘পেগাসাস’ কখনো ‘কিউ সুইট’ কখনো বা ‘ট্রাইডেন্ট’ নামে ব্যবহার করা হয়েছে।

বর্তমান বিশ্বে অত্যাধুনিক স্পাইওয়্যার সফটওয়্যারগুলোর মধ্যে পেগাসাসকে সবচেয়ে কার্যকর বলে মনে করা হয়। এটি সহজেই আইওএস, অ্যাপল ও অ্যান্ড্রয়েড স্মার্ট ফোনে অনুপ্রবেশ করতে পারে।

যেভাবে তথ্য ফাঁসের জন্য প্রথমে একটি ভুয়া হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট তৈরি করে অন্য একটি হোয়াটস অ্যাপ নম্বরে ভিডিও কল দেয়।

যখন কোনো সন্দেহহীন ব্যবহারকারীর ফোন বেজে ওঠে, তখন ওই নম্বরে একটি ক্ষতিকর কোড চলে গিয়ে স্পাইওয়্যারটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইনস্টল হয়ে যায়। কেউ ফোন রিসিভ না করলেও সফটওয়্যারটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইনস্টল হয়ে যেতে পারে।

এরপর আক্রমণকারী ফোনের পুরো সিস্টেম নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। এটা এতটাই ভয়ংকর যে, একবার স্পাইওয়্যারটি ইনস্টল হয়ে গেলে সহজেই যে কারওর হোয়াটসঅ্যাপ ম্যাসেজিং ও কথা বলা, ভয়েস কল, পাসওয়ার্ড, কন্টাক্ট তালিকা, বিভিন্ন ইভেন্টের ক্যালেন্ডার, ফোনের মাইক্রোফোন এমনকি ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণ ও তাদের হাতে চলে যায়।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সাইবার সিকিউরিটি ল্যাব পরিচালনাকারী ক্লডিও গার্নিয়েরি গার্ডিয়ানকে বলেন, একবার কোনো ফোনে (স্মার্টফোন) পেগাসাস সফটওয়্যার ঢুকে গেলে এনএসওর গ্রাহক পুরো ফোনটির দখল পেয়ে যায়।
‘ফোনের মালিকের মেসেজ, কল, ছবি, ই-মেইল সবই দেখতে পাবে, গোপনে ক্যামেরা কিংবা মাইক্রোফোন চালু করতে পারবে। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম, সিগন্যালের মতো এনক্রিপটেড মেসেজিং অ্যাপের বার্তাগুলোও পড়তে পারবে’ বলেন তিনি।

এখন পর্যন্ত ৫০ হাজারের বেশি ফোন নম্বরের একটি তালিকা ফাঁস হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০১৬ সাল থেকে এনএসওর গ্রাহকেরা এসব নম্বরে আড়ি পেতেছে।

তবে ইসরায়েলি কোম্পানি ‘এনএসও’ এক বিবৃতিতে বলেছে, তালিকায় যে ৫০ হাজার ফোন নম্বরের কথা বলা হচ্ছে, সেটা ‘অতিরঞ্জিত’। তারা ৪০টি দেশের শুধু সেনাবাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার কাছে এই স্পাইওয়্যার বিক্রি করেছে।