থার্ডআই ডেস্ক:

আফগানিস্তানের কাবুল বিমানবন্দরে আইএসআইএস -কের আত্মঘাতী হামলার ঘটনায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন ভারতীয় গোয়েন্দারা। কারণ তালেবান আফগানিস্তান নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর সেখানকার একটি জেল থেকে ইসলামিক স্টেট অব খোরাসানের ১৪ সদস্য বেরিয়ে যান। ওই ১৪ জনের বাড়ি ভারতের কেরালা রাজ্যে বলে জানা গেছে। শনিবার আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে খবরে বলা হয়, আফগানিস্তানে ক্ষমতাদখলের পথে সব জেল থেকে কয়েদিদের মুক্তি দেয় তালেবান। সেই সময় পারওয়ান প্রদেশের বাগরাম জেল থেকে বেরিয়ে যায় অন্তত ১৪ ইসলামিক স্টেট অব খোরাসান বা আইএস-কের সদস্য। আর ওই ১৪ জনের বাড়ি ভারতের কেরালা রাজ্যে।

বাগরাম থেকে মুক্তি পাওয়া ১৪ কেরালার বাসিন্দার মধ্যে একজন পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। সেই সূত্রেই তাদের সম্পর্কে জানতে পারেন তদন্তকারীরা।

২০১৪ সালে আইএসের মসুল দখলের পর কেরালার মল্লপুরম, কাসারগোদ ও কান্নুর জেলা থেকে বেশ কয়েকজন দেশ ছাড়ে। যোগ দেয় আইএসে। তাদের মধ্যে কয়েকজন মধ্য-পূর্ব ছেড়ে চলে আসেন আইএস-কের শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত আফগানিস্তানের নানগরহর প্রদেশে।

আনন্দবাজার জানায়, ২৬ আগস্ট কাবুলের তুর্কমেনিস্তান দূতাবাসের সামনে বোমা রাখতে গিয়ে ধরা পড়ে দুই পাকিস্তানি। এ দুজনই আইএস-কের সদস্য। এদের সঙ্গে কেরালার ওই আইএস-কে সদস্যদের যোগাযোগ ছিল। কাবুলের তুর্কমেনিস্তান দূতাবাসে বোমা রাখতে গিয়ে ধরা পড়া দুই পাক নাগরিক এবং কেরালার ওই ১৪ জনের যোগ রয়েছে বলে নিশ্চিত ভারতীয় গোয়েন্দারা।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, হাক্কানি নেটওয়ার্কের মূলকেন্দ্র আফগানিস্তানের নানগরহর প্রদেশ আইএস-কেরও শক্ত ঘাঁটি। ফলে হাক্কানি নেটওয়ার্কের সহযোগিতা নিয়ে আইএস-কে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের ছক কষেছে কিনা তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে।

পাশাপাশি এই খবরে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাথাব্যথা বেড়েছে। কারণ আফগানিস্তানে হামলার ঘটনায় কেরালার নাম জড়িয়ে গেলে আন্তর্জাতিকভাবে ভারতের বেকায়দায় পড়ার সম্ভাবনা প্রবল।

উল্লেখ্য, কাবুল বিমানবন্দরে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আত্মঘাতী হামলায় ১৩ মার্কিন সেনাসহ কমপক্ষে ১৭০ জন নিহত হয়েছেন। আইএসের আফগান শাখা (আইএস-কে) এ হামলার দায় শিকার করে বিবৃতি দিয়েছে।