শাবি প্রতিনিধি

বন বিভাগ ও সংসদীয় কমিটির আপত্তি উপেক্ষা করে কক্সবাজারের রক্ষিত ঝিলংজা বনভূমির ৭০০ একর জায়গা প্রশাসন একাডেমির জন্য বরাদ্দ দেওয়ায় বাংলাদেশ প্রফেশনাল ফরেস্ট্রি স্টুডেন্ট এসোসিয়েশন (বাফসা), শাবিপ্রবি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

শনিবার সন্ধ্যায় বাফসা শাবিপ্রবির সাধারণ সম্পাদক মো. রিফাত হোসেন গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানান।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভের পাশে ওই বনভূমি ‘রক্ষিত ও পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন’। এরূপ বনভূমি ও জীববৈচিত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ পরিকল্পনায় আমরা “বাংলাদেশ প্রফেশনাল ফরেস্ট্রি স্টুডেন্ট এসোসিয়েশন (বাফসা), শাবিপ্রবি, গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, ৭০০ একর বনভূমিটি ঝিলংজা রক্ষিত বনভূমির অংশ। উক্ত বনভূমিতে ৫৮ প্রজাতির বৃক্ষ আছে। এর মধ্যে আছে গর্জন, চাপালিশ, তেলসুর, মোস, কড়ই, বাটনা, ভাদি, বহেরাসহ অনেক দুর্লভ প্রজাতি। বন্য প্রাণীর মধ্যে আছে এশীয় বন্য হাতি, বানর, বন্য শূকর, বিভিন্ন প্রজাতির সাপ ও পাখি। ১৯৯৯ সালে ঝিলংজা ইউনিয়নকে “প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ)” হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়। ২০০১ সালে দেশের বনভূমির যে তালিকা করা হয়, তাতেও ঝিলংজা মৌজা বনভূমি হিসেবে আছে। বন আইন অনুযায়ী, পাহাড় ও ছড়াসমৃদ্ধ এই বনভূমির ইজারা দেওয়া বা না দেওয়ার এখতিয়ার কেবল বন বিভাগের। কিন্তু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এই জমি বরাদ্দ নিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে।

বিজ্ঞপ্তিতে বনভূমি দখলে উদ্বেগের কারণ হিসেবে বলা হয়, দেশের অন্যতম জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ বনভূমিকে অকৃষি খাসজমি হিসেবে দেখানো হয়েছে। এই পরিকল্পনা বন আইন ১৯২৭ এর পরিপন্থী, কক্সবাজারে বনভূমিতে প্রশাসনিক একাডেমি করা অপ্রয়োজনীয় এবং ক্ষতিকারক,
বন বিভাগের জমি ভূমি মন্ত্রণালয় বরাদ্দ দেয়ার যৌক্তিকতা নেই, বাংলাদেশে বনভূমির পরিমাণ প্রয়োজনের চেয়ে অর্ধেকেরও কম, এভাবে বনভূমি দখল হতে থাকা দেশের অর্থনীতি এবং পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ বলে উল্লেখ করা হয়।

এতে আরো বলা হয়, এই পরিকল্পনা “বণ্যপ্রানী আইন, ২০১২” এর ১৪ অনুচ্ছেদ রক্ষিত অঞ্চলে নিষিদ্ধ কার্য আইনের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক। এ অঞ্চলে কোন বনভূমি উজার করা, জীববৈচিত্রের ক্ষতি করা, বাস্তুসংস্থান ও খাদ্য সঙ্কট তৈরী করা নিষিদ্ধ। দেশের প্রচলিত পরিবেশ বিষয়ক আইনের সরাসরি লংঘনে ছাত্র সমাজ উদ্বিগ্ন। এমন পরিকল্পনায় দেশের বনভূমি রক্ষা আইনের বাস্তবায়ন নিয়ে আমরা গভীরভাবে চিন্তিত। আমরা আশা করছি এরূপ আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সরে আসবে।