
থার্ডআই ডেস্ক:
গত ৯ মাস ধরে ভারতকে পেছনে ফেলে জাহাজভাঙা শিল্পে শীর্ষস্থান বজায় রেখেছে বাংলাদেশ
করোনাভাইরাস মহামারির প্রথম তরঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দ্বিতীয় তরঙ্গ থেকেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে দেশের জাহাজভাঙা শিল্প। এ বছর জানুয়ারি-মার্চ ও এপ্রিল-জুন জরিপের মতো জুলাই-সেপ্টেম্বর মাসের জরিপেও শীর্ষস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।
বেলজিয়ামভিত্তিক গবেষণা সংস্থা “শিপ ব্রেকিং প্ল্যাটফর্ম”-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসে বিশ্বব্যাপী সর্বমোট ১২০টি জাহাজ ভাঙা হয়েছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র বাংলাদেশেই ভাঙা হয়ে ৪১টি জাহাজ। অর্থাৎ ৩৪%। এর আগে ২০২০ সালে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসে বিশ্বব্যাপী ভাঙা ১৭০টি জাহাজের মধ্যে ২৪টি জাহাজ বাংলাদেশে ভাঙা হয়েছিল। অর্থাৎ ১৪%।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এ বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী ৫৮২টি জাহাজ ভাঙা হয়েছে। যার মধ্যে বাংলাদেশেই ১৯৭টি অর্থাৎ ৩৪% জাহাজ ভাঙা হয়েছে। অন্যদিকে, গত বছর ৩৩৪টি জাহাজের মধ্যে ৯৮টি বাংলাদেশেই ভাঙা হয়েছিল। অর্থাৎ এ বছর ৯৯টি জাহাজ বেশি ভেঙেছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবু তাহের বলেন, “অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য বিগত বছরগুলোতে রডের চাহিদা বেড়েছে। এই চাহিদা পূরণের জন্য রড তৈরির বাড়তি কাঁচামাল প্রয়োজন। আর এ জন্যই বেড়েছে জাহাজ ভাঙার পরিমাণ। এছাড়া, মেট্রোরেল, পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং মাতারবাড়ীসহ বড় বেশকিছু বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র ও অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে।”
তিনি আরও বলেন, “জাহাজ ভাঙার কাজ করোনাভাইরাস মহামারি রোধে জারি করা লকডাউনেও অব্যাহত ছিল। তাই গত ৯ মাস ধরে ভারতকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশ জাহাজভাঙা শিল্পে শীর্ষস্থান বজায় রেখেছে।”
জাহাজ ভাঙার পরিমাণের দিক থেকেও ছয় বছর ধরে শীর্ষস্থান দখল করে রেখেছে বাংলাদেশ। গত বছর বিশ্বব্যাপী জাহাজ ভাঙার পরিমাণ প্রায় এক কোটি ৫৮ লাখ ৬৬ হাজার ৭০৪ টন ছিল। এর মধ্যে শুধুমাত্র বাংলাদেশেই জাহাজ ভাঙার পরিমাণ ছিল ৬৯ লাখ ৬৪ হাজার ৭৭৪ টন।



