থার্ডআই ডেস্ক:
চট্টগ্রামে মাহমুদা আক্তার মিতু হত্যার ঘটনায় তার স্বামী সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারের করা মামলার নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
চট্টগ্রামের মহানগর হাকিম মেহনাজ রহমান বুধবার পিবিআইয়ের চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ না করে পুনঃতদন্তের আদেশ দেন। ফলে বাবুল আক্তারের করা মামলাটির কার্যক্রম চলতে বাধা নেই বলে তার আইনজীবী শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী জানান।
পাঁচ বছর আগের ওই হত্যা মামলার তদন্ত করতে গিয়ে খোদ বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়ে গত মে মাসে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছিল তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এর ভিত্তিতে বাবুলকে আসামি করে নতুন একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন।
অন্যদিকে ওই প্রতিবেদন নিয়ে আপত্তি জানিয়ে সিআইডি বা অন্য কোনো সংস্থার কোনো জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার মাধ্যমে মিতু হত্যার ঘটনায় নিজের করা মামলাটির পুনঃতদন্ত চেয়েছিলেন সাবেক এসপি বাবুল আক্তার।
বাবুল আক্তারের আইনজীবী শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী বলেন, “আদালত গ্রহণযোগ্যতার শুনানি করে পিবিআইয়ের দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদন খারিজ করে দিয়েছে। ফলে বাবুল আক্তারের নারাজি দরখাস্তও অকার্যকর হয়ে গেছে। তবে কোন সংস্থার মাধ্যমে এখন এ মামলার পুনঃতদন্ত হবে, সে সিদ্ধান্ত এখনও আদালত দেয়নি।
আইনজীবী সাইমুল চৌধুরী বলেন, “একই অভিযোগ দুবার কেউ তদন্ত করতে পারে না। আইনগত কারণেই এটা পারে না। পরবর্তীতে অন্য কাউকে দিয়ে তদন্ত করতে হয়। আমরা আবেদন করব পুনঃতদন্ত কারা করবে সে বিষয়ে নির্দেশনা চেয়ে।
আইন অনুযায়ী একই অপরাধের ঘটনায় দুটি মামলাও চলতে পারে না। তাহলে মিতুর বাবার করা মামলাটি কীভাবে চলবে জানতে চাইলে প্রসিকিউশন পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার কামরুল হাসান বলেন, “ওই মামলার তদন্তের দায়িত্বেও রয়েছে পিবিআই। আদালত ওই মামলার বিষয়ে কোনো আদেশ যেহেতু দেয়নি, মামলা তাদের হাতেই থাকবে। পরে কী হবে সেটা আদালতই ঠিক করে দেবে। ”
২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড়ে ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় মিতুকে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর নগরীর পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে একটি মামলা করেছিলেন বাবুল আক্তার নিজেই।
আদালতের আদেশে পরে মিতু হত্যা মামলা যায় পিবিআইয়ের হাতে। হত্যাকাণ্ডের প্রায় পাঁচ বছরের মাথায় গত ১১ মে বাবুল আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চট্টগ্রাম পিবিআই কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। এর পরদিন ১২ মে ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার বলেন, মিতু হত্যার সঙ্গে তার স্বামী বাবুল আক্তারের ‘সম্পৃক্ততার প্রমাণ’ পেয়েছেন তারা।
ঢাকায় ওই সংবাদ সম্মেলনের পর সেদিনই চট্টগ্রামে আদালতের প্রসিকিউশন শাখায় ৫৭৫ পৃষ্ঠার চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছিলেন পিবিআইর পরিদর্শক মামলার আইও সন্তোষ কুমার চাকমা। এরপর ওইদিনই পাঁচলাইশ থানায় মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন একটি হত্যা মামলা করেন। যাতে বাবুলকে প্রধান আসামিসহ মোট নয়জনকে আসামি করা হয়।
বাবুল ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেন- তার ‘সোর্স’ কামরুল ইসলাম শিকদার ওরফে মুছা, এহতেশামুল হক ভোলা, মুছার ভাই সাইদুল আলম শিকদার ওরফে শাক্কু, মোতালেব মিয়া ওরফে ওয়াসিম, মো. আনোয়ার হোসেন, শাহজাহান ও খায়রুল ইসলাম কালু।
ওই মামলায় বাবুলকে পিবিআই হেফাজতে নিয়ে পাঁচ দিন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
পিবিআইয়ের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে গত ১৪ অক্টোবর আইনজীবীর মাধ্যমে আবেদন করেন বাবুল আক্তার। সেই নারাজি আবেদনের ওপর শুনানি হয় গত ২৭ অক্টোবর।




