নিজস্ব প্রতিবেদক
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, আমার দেখা মতে, বাংলাদেশে কোনো এক্সট্রা জুডিসিয়াল কিলিং হয় নাই। বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিদেশি গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন ওকাব আয়োজিত এক সভায় মন্ত্রীর এই বক্তব্য আসে।
গুম ও ক্রসফায়ারের মতো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডগুলোর তদন্তে স্বাধীন কমিশন গঠনের দাবি নিয়ে এক প্রশ্নে আনিসুল হক বলেন, আমি ঠিক বুঝতে পারলাম না, আপনারা এক্সট্রা জুডিসিয়াল কিলিং কোথায় পেলেন? এটা আমার উল্টো প্রশ্ন। আমার দেখা মতে, বাংলাদেশে কোনো এক্সট্রা জুডিসিয়াল কিলিং হয় নাই। আর সেইজন্যই এরকম দাবি আমলে নেওয়ার প্রয়োজন মনে করি না।
আনিসুল হক বলেন, আমি যখন প্রথম আইনমন্ত্রী হই, আমাকে বলা হল ২৪১টি এক্সট্রা জুডিসিয়াল কিলিং ও গুমের অভিযোগ। আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের ডেকে বললাম এই যে ২৪১টি, এগুলোর ব্যাপারে আপনারা আমাকে হিসাব দেন। কিন্তু পরে দেখা গেল, এর মধ্যে দুটো সত্য। বাকি ২৩৯টি মিথ্যা। সত্য দুটোর মধ্যে একটা হচ্ছে একজন পুলিশ কর্মকর্তা একজনকে গুলি করে মেরেছেন। ওই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মার্ডার কেস হয়েছে। এরকম ঘটনা ঘটলে সরকার আইন অনুযায়ী যে ব্যবস্থা সেটাই নেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ২০১৮ সালে মাদকবিরোধী অভিযানের সময় টেকনাফের পৌর কাউন্সিলর ও উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি একরামুল হককে ‘বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যার মত গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় সম্পৃক্ততার জন্য’ আইজিপি বেনজীর আহমেদসহ ছয় কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।
একরামুল হত্যার পর কোনো মামলা হয়নি সরকারের পক্ষ থেকে, কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি সরকারকে- এ প্রশ্নে আইনমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারে যে আরেকটি ঘটনা হয়েছে সিনহা হত্যা মামলা… তার তো বিচার হয়েছে। যিনি এটা করেছেন, তাকে তো ছাড় দেওয়া হয়নি। কেউ যে কোনো অপরাধের বিরুদ্ধে মামলা করে তাহলে পরে আমি অবশ্যই এটা বলতে পারি, সরকার এটার পদেক্ষেপ নেবে। কারও জন্য আদালতে যাওয়া বারিত (নিষিদ্ধ) নয়। র্যাবের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে ব্যাপারটাকে নিষ্পত্তি করতে পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিচ্ছে।




