নিজস্ব প্রতিবেদক

বিদেশি নিরাপত্তা বাহিনীতে মার্কিন অর্থায়ন সহযোগিতা নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত লিহি আইনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আরও সময় চেয়েছে বাংলাদেশ। শনিবার পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেছেন, ‘সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার জন্য আমাদের আরও সময় দরকার। আমরা তাদের (যুক্তরাষ্ট্র) আরও আলোচনার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে জানিয়েছি।

লিহি আইন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র কোনো দেশকে নিরাপত্তা সহায়তা দেওয়ার আগে সে সব দেশ থেকে তাদের সম্মতিপত্র পেতে হয়। গত ১ ডিসেম্বর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্র ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে এ আইনের বিষয়ে বাংলাদেশের মতামত চেয়েছিল। কিন্তু জবাব দিতে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চেয়েছিল বাংলাদেশ।
সূত্র জানায়, নিরাপত্তা সহযোগিতায় মার্কিন অর্থায়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে এ সময়ের মধ্যে দুটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

২৮ ডিসেম্বর বৈঠকের পর পররাষ্ট্র সচিব সাংবাদিকদের বলেছিলেন যে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ওই আইনে সম্মতি জানানোর আগে তাদের আরও আলোচনার প্রয়োজন।

তিনি বলেন, আমরা যুক্তরাষ্ট্রের ওই আইনে সম্মতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সুবিধাগুলো পর্যালোচনা করছি। এছাড়াও আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো নীতি মার্কিন আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না তাও খতিয়ে দেখছি। এক প্রশ্নের জবাবে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে গত ১০ ডিসেম্বর র‌্যাবের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে এর কোনো যোগসূত্র নেই বলে জানান, পররাষ্ট্র সচিব।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে ৬৬ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডলার বৈদেশিক সামরিক অর্থায়ন করেছে এবং আন্তর্জাতিক সামরিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সহায়তা হিসেবে ৭ দশমিক ২৯ মিলিয়ন ডলার দিয়েছে।

মার্কিন সরকারের বিদেশি সামরিক বিক্রয় ব্যবস্থার অধীনে বাংলাদেশের সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ১৩০ দশমিক ৫৯ মিলিয়ন ডলার লেনদেন আছে।
তবে নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে র‌্যাব যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সহায়তা পাবে না।