নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় নির্বাচনী সহিংসতায় সপ্তম শ্রেণি পড়ুয়া কিশোর সন্তানকে হারিয়ে শ্রমজীবী বাবা-মায়ের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে সেখানকার পরিবেশ।
ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের সপ্তম ও শেষ ধাপের ভোটের দিন সোমবার সাতকানিয়ার নলুয়া ও বাজালিয়ায় দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষে এক কিশোরসহ দুইজন নিহত হয়।
এদিন দুপুর ১২টার দিকে ভোট চলাকালে নলুয়ার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মরফলা বোর্ড কেন্দ্রের বাইরে কুপিয়ে হত্যা করা হয় তাসিবকে। তার চাচা মিজানুর রহমান নলুয়া ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী।

কেন্দ্রের বাইরে থাকা তাসিবকে প্রতিপক্ষ মনে করে হত্যা করা হয় বলে ধারণা করছেন স্বজনেরা।
এ ঘটনায় ইউনিয়নের মরফলা গ্রামে তাসিবের বাড়িতে এখন চলছে মাতম। ছেলের লাশের পাশে তাসিবের রিকশাচালক বাবা জসিম উদ্দিন ও মা সখিনা বেগমের আহাজারি ভারী করে তুলেছে বাড়ির আশপাশের পরিবেশ। কান্না থামাতে পারছেন না পাড়া–প্রতিবেশীরাও।
তাসিব সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। তিন ভাই-বোনের মধ্যে তাসিব বড়।
বুক চাপড়ে জসিম বলেন, ‘‌আমার ছেলেরে মেরে ফেলল। আর কারও বুক যেন খালি না হয়। আমার প্রাণের ছেলেরে মেরে ফেলল।

আমি সবার ফাঁসি চাই। ’
জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আমার ভাই নির্বাচন করছিল। ছেলে উৎসুক হয়ে দেখতে গেছে। তখন তাকে কোপায় এক চেয়ারম্যান প্রার্থীর লোকজন। আমি সামান্য রিকশাচালক। আমার ছেলের কী দোষ?’
তাসিবের মা সখিনা বেগম কান্নায় বুক ভাসাচ্ছিলেন। দুই বোন খাটের পাশে বসে ভাইয়ের লাশের মাথায় হাত বুলাচ্ছিল।

সখিনা বলেন, ‘আমার ছেলে ঘুমাচ্ছে। দেখছ তোমরা। এখনো রক্ত চলাচল করছে। ’

একটু থেমে সখিনা বিলাপ করে বলেন, ‘কিসের ভোট, কিসের নির্বাচন? আমার ছেলেকে এনে দিতে বলেন। আমার ছেলে নিরীহ, তাকে কেন হত্যা করা হলো? এর বিচার চাই আমি। আমার ছেলের জন্য তার বাবা রিকশা চালিয়ে টাকা রোজগার করছিল। পড়ালেখা চালাচ্ছিল। এখন আমি কাকে নিয়ে বাঁচব?’
স্থানীয়রা জানান, বোর্ড অফিস কেন্দ্রে চেয়ারম্যান প্রার্থী নৌকার লিয়াকত আলীর লোকজন অবস্থান নেয়। বিদ্রোহী প্রার্থী মিজানুর রহমানের অনুসারীদের সঙ্গে তখন মারামারি শুরু হয়। একপর্যায়ে কেন্দ্রের বাইরে দাঁড়ানো তাসিবকে কুপিয়ে চলে যায় কয়েকজন। শেষে নৌকার প্রার্থীর লোকজন কেন্দ্রটির নিয়ন্ত্রণ নেয়।

কেন্দ্রের নিরাপত্তায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সাতকানিয়া থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবদুল মতিন বলেন, কেন্দ্রের বাইরে গন্ডগোল হয়েছে। এ সময় এক কিশোরের মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর বেলা একটার দিকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার রশিদুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।