নিজস্ব প্রতিবেদক
বঙ্গোপসাগর ও আন্দামান সাগরে অবস্থানরত নিম্নচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টির নাম দেয়া হয়েছে ‘আসানি’।
ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাসের কারণে পটুয়াখালীতে কৃষকদের আবাদকৃত বোরো ধান কাটার নির্দেশ দিয়েছে কৃষি বিভাগ। কৃষি বিভাগের দেওয়া নির্দেশনায় ৮০ শতাংশ ধান পেকেছে এমন খেতের ধান যত দ্রুত সম্ভব কেটে ঘরে তুলতে বলা হয়েছে।
তবে যেসব খেতের ধান এখনও ভালোভাবে পাকেনি, সেসব কৃষকরা শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, লঘুচাপটি শনিবার বেলা ১২টার দিকে নিম্নচাপে পরিণত হয় বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। দেশের সমুদ্র বন্দরগুলোকে এক নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার। যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নিম্নচাপ কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে।
যে কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে এক নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সেই সঙ্গে তাদের গভীর সাগরে বিচরণ করতে মানা করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নিম্নচাপটি শনিবার দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ১৪২৫ কিলোমিটার দক্ষিণে, কক্সবাজার থেকে ১৩৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং মোংলা বন্দর থেকে ১৪৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল।
এটি ঘনীভূত হয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে বলেও আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।
আবহাওয়াবিদ ও ঘূর্ণিঝড় বিশেষজ্ঞ মোস্তফা কামাল পলাশ জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি প্রাথমিক ২ টি পর্যায় (লঘু চাপ ও গভীর নিম্নচাপ) সম্পন্ন করে অবশেষে পূর্ণ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। এই ঘূর্ণিঝড়টির নাম এখন ‘আসানি’। ঘূর্ণিঝড়টি আজ দুপুর ১২ টার সময় ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ ও ৯১ দশমিক ৩ ডিগ্রি দ্রাঘিমাংশে অবস্থান করছিল। ঘূর্ণিঝড়টি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছ ঘণ্টায় প্রায় ১৫ কিলোমিটার বেগে। দুপুর ১২ টার সময় সমুদ্রে পৃষ্ঠে ঘূর্ণিঝড়টির বাতাসের বেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ৭৫ কিলোমিটার, দমকা হাওয়াসহ যা ঘণ্টায় প্রায় ৯৩ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠছিল। শনিবার দুপুর ১২ টার সময় ঘূর্ণিঝড়টি কলকাতা বন্দর থেকে প্রায় ১৫০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল।
তিনি বলেন, সোমবারের আগে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না এই ঘূর্ণিঝড়টি কোন স্থানের ওপর দিয়ে স্থল ভাগ অতিক্রম করবে। আবহাওয়া পূর্বাভাষ মডেলগুলোর হিসেবে, ৯ মে থেকে এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের উপকূলীয় জেলাগুলোতে বৃষ্টি হবে। ১০ মে থেকে চট্টগ্রাম বিভাগের জেলাগুলোতে বৃষ্টি শুরু হবে। এছাড়া, ১১ মে থেকে বরিশাল, খুলনা, চট্টগ্রাম, সিলেট বিভাগের জেলাগুলো এবং ১২ ও ১৩ তারিখে পুরো দেশব্যাপী বৃষ্টি হবে। ১৩ ও ১৪ তারিখে চট্টগ্রাম বিভাগের জেলাগুলোতে ভারী বৃষ্টিপাত হবে বলে জানানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আমেরিকান আবহাওয়া পূর্বাভাস মডেল অনুসারে ঘূর্ণিঝড় আসানির কারণে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলায় মে মাসের ১০ তারিখ থেকে ১৪ তারিখ পর্যন্ত ৬০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। ভারী বৃষ্টিপাতে কক্সবাজার জেলায় অবস্থিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে ব্যাপক বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. এনামুর রহমান বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, লঘুচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে ধরে নিয়ে সে অনুযায়ী সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ঘূর্ণিঝড় ‘আসানি’ শ্রীলঙ্কার দেওয়া নাম। আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের নাম দেয় বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার সাইক্লোন সংক্রান্ত আঞ্চলিক সংস্থা এসকাপ। এ অঞ্চলের ১৩টি দেশের দেওয়া নামের তালিকা থেকে পর্যায়ক্রমে নতুন নতুন ঘূর্ণিঝড়ের নাম ঠিক করা হয়।
মে মাসের দীর্ঘ মেয়াদি পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছিল, এ মাসে বঙ্গোপসাগরে একটি বা দুটি নিম্নচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে এ মাসের প্রথম সপ্তাহে একটি নিম্নচাপ এবং একটি ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা রয়েছে।




