নিজস্ব প্রতিবেদক

গত কয়েক দিন ধরে চালের দাম আবার বাড়তে শুরু করেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারি বাজারে কেজিপ্রতি ২ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। পাইকারি বাজারে চালের দাম বাড়ায় এ প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। গতকাল বুধবার প্রায় সব ধরনের চালের দাম খুরচা বাজারে কেজিপ্রতি ৩-৫ টাকা বেশি দেখা গেছে।

তবে সবজি দাম বাড়ার পর বাজার এখন স্থিতিশীল।
ধানের ভরা মৌসুমে চালের দাম বাড়ায় অসন্তুষ্ট ক্রেতারা। তারা বলছেন, বাজারে নতুন চাল এলে দাম অনেকটা কমে যায়। কিন্তু এ বছর উল্টো চিত্র। প্রতিদিন সব ধরনের চালে ১-২ টাকা করে বেড়েই চলছে।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে চাল কিনতে এসেছেন তেজকুনিপাড়ার বাসিন্দা আব্বাস উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘প্রতি মাসে আমার এক বস্তা চাল প্রয়োজন হয়। গত মাসে ৪২ টাকা দরে আটাশ চাল কিনেছি। আজকে (গতকাল) ৪৬ টাকা দরে প্রতি কেজি চাল কিনতে হয়েছে।

অথচ আমাদের দেশে এখন নতুন চাল এসেছে। এ সময় সব ধরনের চালের দাম কমার কথা কিন্তু তা না হয়ে উল্টো বাড়ছে। ’

শুধু আটাশ চাল নয়, এ সময় মাঝারি চাল ৫৩-৫৫ এবং মিনিকেট চাল ৬৮, নাজিরশাইল ৮০-৮২ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, মিনিকেট চালের বস্তা ২৯৫০-৩০০০ টাকায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জের দুটি ব্র্যান্ডের চাল বিক্রি হচ্ছে ৩১৫০ টাকায়। মাঝারি চাল (বিআর আটাশ) বস্তা ২২০০-২২৫০ টাকায়, পাইজাম ২১০০ থেকে ২১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ভরা মৌসুমেও কেন চালের দাম বাড়তি এমন প্রশ্নে কারওয়ান বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশ রূপান্তরকে বলেন, বোরো ধানের বড় অংশই কৃষকের কাছ থেকে কিনে নিয়েছে ফড়িয়া ও মিলাররা। চাল করে বাজারে ছাড়ার কথা তাদের। তারা তা না করে গুদামে আটকে রেখেছে। মিলারদের কাছ থেকে চালের পর্যাপ্ত সরবরাহ বাজারে আসছে না। এ কারণে চালের সংকট ও দাম দুই বাড়ছে।

কারওয়ান বাজারের চাল বিক্রেতা মো. ফজলুল হক বলেন, ‘বাজারে চালের সংকট। কীভাবে এ সংকট তৈরি হয়েছে আমরা জানি না। চালের জন্য আগাম টাকাও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মিলমালিকদের কাছ থেকে চাল পাচ্ছি না। ’
এদিকে খুচরা বাজারগুলোতে সব ধরনের চালে বাড়তি দাম রাখা হচ্ছে। পাইকারি বাজার থেকে ৩-৭ টাকা পর্যন্ত পার্থক্য।
গত ১৩ মে ভারত গম রপ্তানি বন্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করার পর আটা ও ময়দার বাজারে প্রভাব পড়ে। আর এর প্রভাব পড়েছে চালের বাজারে।

সরকারি বিপণন সংস্থা টিসিবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে খুচরা পর্যায়ে সরু চাল বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬০-৬৮ টাকায়। এক বছর আগে ৩১ মে প্রতি কেজি সরু চালের দাম ছিল ৫৮-৬৫ টাকা।
কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ক্যাবের সভাপতি গোলাম রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অন্য সব পণ্যের প্রভাবে চালের দামও ঊর্ধ্বমুখী। তবুও আমাদের দেশের চালের যে চাহিদা তার বেশিরভাগ দেশেই উৎপন্ন হয়। তাই সরকারের আরও বেশি কঠোর হওয়া উচিত আন্তর্জাতিক বাজারের সুযোগ নিয়ে কোনো গোষ্ঠী যেন চালের বাজার অস্থির করতে না পারে। ’
দাম না বাড়লেও আগের মতোই বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের মাছ-মাংস ও সবজি। বিক্রেতারা বলছেন, পণ্যের সরবরাহ কম ও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে মুরগি-ডিম আগের মতোই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।
গতকাল রাজধানীর বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি ডজন ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা। এছাড়া প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮৫-১৯০ টাকা।