নিজস্ব প্রতিবেদক

গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকোর নজরকাড়া নৈপুণ্যে ইন্দোনেশিয়াকে রুখে দিয়েছে বাংলাদেশ। এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বের আগে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা প্রস্তুতিটা ভালোই সেরে নিল।
এর ৩৭ বছর আগে ১৯৮৫ সালে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে কায়েদে আজম ট্রফিতে ১-১ গোলে ড্র করেছিল বাংলাদেশ।
বুধবার বান্দুংয়ে র‍্যাঙ্কিংয়ের ১৫৯ নম্বরে থাকা স্বাগতিকদের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে বাংলাদেশ।

প্রাধান্য দেখালেও ইন্দোনেশিয়ার আক্রমণগুলো পূর্ণতা পায়নি বাংলাদেশের গোলরক্ষক জিকোর দৃঢ়তায়। দারুণ সব সেভ করে গোলপোস্ট অক্ষত রাখেন তিনি। সঙ্গে যোগ হয় ইন্দোনেশিয়ার ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতাও।
তবে চোট ও নিষেধাজ্ঞার কারণে নিয়মিত একাদশের একাধিক ফুটবলার ছাড়াও ড্র আদায় করা নিঃসন্দেহে উদ্বেলিত করবে বাংলাদেশের কোচ হাভিয়ের কাবরেরাকে।

নাবীব নেওয়াজ জীবন শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে বাদ পড়ায় এই ম্যাচে অভিষেক হয় ফরোয়ার্ড সাজ্জাদ হোসেনের। তবে নজর কাড়তে পারেননি তিনি। কাজ চালাতে টুটুল হোসেন বাদশা, বিশ্বনাথ ঘোষ, ইয়াসিন আরাফাত ও রিমন হোসেনকে নিয়ে গড়া রক্ষণভাগও কয়েক দফা খেই হারায়।
ম্যাচের ১১তম মিনিটে ফাসরুদ্দিনের হেড ডান দিকে ঝাঁপিয়ে রুখে দেন জিকো। দুই মিনিট পর তাকে পরাস্ত করতে ব্যর্থ হন সাদ্দিল রামদানি।

ডি-বক্সের ভেতর থেকে তার জোরালো শট ফিরিয়ে দেন জিকো। ২১ মিনিটে আবার বাংলাদেশকে রক্ষা করেন তিনি। স্তেফানো জানতজির শট তার গায়ে লেগে চলে যায় বাইরে।

প্রথমার্ধে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য আক্রমণটি হয়েছিল ২৫ মিনিটে। তবে রাকিব হোসেনের দূরপাল্লার জোরালো শট খুঁজে পায়নি জালের ঠিকানা।

বিরতির পরও বাংলাদেশের রক্ষণে চাপ বজায় রেখে খেলতে থাকে স্বাগতিকরা। ম্যাচের ৭৩তম মিনিটে তারা একবার বল জালেও পাঠিয়েছিল। কিন্তু অফসাইডের কারণ বাতিল হয় গোলটি। ৮৭তম মিনিটে আরেক দফা ইন্দোনেশিয়ার প্রচেষ্টা পায়নি পূর্ণতা। দিমাস দ্রাজাদের হেড চলে যায় ক্রসবারের সামান্য উপর দিয়ে। কিছুক্ষণ পর শেষ বাঁশি বাজলে বাংলাদেশ পায় স্বস্তি।
আগামী ৮ জুন থেকে মালয়েশিয়ায় শুরু হবে এশিয়ান কাপের বাছাইপর্ব। র‍্যাঙ্কিংয়ের ১৮৮ নম্বরে থাকা বাংলাদেশকে সেখানে দিতে হবে কঠিন পরীক্ষা। কারণ, কাবরেরার শিষ্যদের তিন প্রতিপক্ষই র‍্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে। তারা হলো বাহরাইন (৮৯), তুর্কমেনিস্তান (১৩৪) ও স্বাগতিক মালয়েশিয়া (১৫৪)।