নিজস্ব প্রতিবেদক
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের পরিবর্তন হলেই কল্যাণকর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।
তিনি বলেছেন, দেশে একের পর এক গুমের কাহিনি, এটা শেষ হওয়ার নয়। এর পরিবর্তন দরকার। সে জন্য বর্তমান সরকারের পরিবর্তন ও আয়নাঘরকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেওয়া দরকার।
বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে গুম ও সাদাপোশাকে গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষার্থীদের স্মৃতিচারণা ও ছাত্র-জনতার সমাবেশ শীর্ষক এক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে জাফরুল্লাহ চৌধুরী এসব কথা বলেন। গুমের শিকার সব নাগরিককে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া, সব রাজবন্দির মুক্তি ও জাতিসংঘের অধীনে নিরপেক্ষ কমিটি করে গুমের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে ছাত্র অধিকার পরিষদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা এই সমাবেশের আয়োজন করে।
গুম হওয়া ব্যক্তিদের তুলে নিয়ে আয়নাঘর নামে গোপন স্থানে আটকে রাখাসংক্রান্ত একটি তথ্যচিত্র সম্প্রতি একটি অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত হয়েছে। সে প্রসঙ্গ তুলে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, দেশে কত আয়নাঘর আছে, তা জানা নেই। দেশে যে একের পর এক গুমের কাহিনি, এটা শেষ হওয়ার নয়। এর পরিবর্তন দরকার।
এ প্রসঙ্গে বিএনপিরও সমালোচনা করে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপি একবারও বলছে না যে তারা ক্ষমতায় এলে সব আয়নাঘর ভেঙে চুরমার করে দেবেন এবং যারা গুম হয়েছে, তাদের ক্ষতিপূরণ দেবেন। তারা একটা ভুল করছে। সব বিরোধী দলকে সমবেত কণ্ঠে বলতে হবে, গুম বন্ধ না করলে বিচার হবে।
যারা গুম ও অত্যাচারিত হয়েছেন, তাদের প্রত্যেককে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাদের শিক্ষা দেওয়া হবে, যাতে তারা বিদেশে যেতে পারে।
এই সরকারের পরিবর্তন হবেই বলে মনে করেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী। এই ধারণার পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, এভাবে কোনো ফ্যাসিস্ট সরকার বেঁচে থাকতে পারে না। কিন্তু দুর্ভাগ্য যে বিএনপি তার নেতা চেনে না। তাদের নেতা হবেন খালেদা জিয়া, তারেক রহমান নন। খালেদা জিয়ার জামিন হলেই তিন-চার মাসের মধ্যে পরিবর্তনের জোয়ার বইবে। তাকে দিয়েই প্রতিটি গুমের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি তুলতে হবে।
এ সময় ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরতে গিয়ে জাফরুল্লাহ বলেন, ‘শেখ সাহেবের (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান) আমলে আমিও কয়েক দিনের জন্য গুম হয়েছিলাম। খুব বেশি সময় নয়, অল্প সময়। সাদাপোশাকে থাকা সেই কর্মকর্তা আমাকে তার পরিচয় দিয়েছিলেন। অত্যাচার করা হয়েছিল আধুনিক কায়দায়। দুই হাজার ওয়াটের বাতি আমার দুদিকে লাগিয়ে দিয়ে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছিল।




