নিজস্ব প্রতিবেদক

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সংলাপে অংশ নিয়ে বেশিসংখ্যক দল বিরোধিতা করলেও আগামী জাতীয় নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৫০টিতে ইভিএমে ভোট নেওয়ার কথা জানিয়েছে ইসি।
গতকাল মঙ্গলবার ইসির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয় বলে জানিয়েছেন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ।

ইভিএমে ভোটগ্রহণ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) এই সিদ্ধান্ত এলো।

ইসির এই সিদ্ধান্তকে আওয়ামী লীগ ইতিবাচকভাবে নিলেও ক্ষমতাসীন দলটির নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোটের শরিক কয়েকটি দল ভালোভাবে নেয়নি।
সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি (জাপা) ইভিএমের বিপক্ষে তাদের অবস্থান জানিয়েছে। দলটির চেয়ারম্যান ও সংসদে বিরোধী দলের উপনেতা জি এম কাদের বলেছেন, কারচুপি করতেই ইভিএমে ভোট করতে চাইছে ক্ষমতাসীনরা।
রাজপথে সরকারবিরোধী বড় দল বিএনপিও ইসির এই সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেছে। দলটি বলেছে, ইসিকে দিয়ে ইভিএম কারচুপির মাধ্যমে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে চায় আওয়ামী লীগ। বিএনপির মিত্র দলগুলোও ইভিএমের বিপক্ষে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

গতকাল ইসির সভা শেষে কমিশনের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ সাংবাদিকদের বলেন, ‘কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, অনূর্ধ্ব ১৫০টি আসনে ইভিএমে নির্বাচন হবে। ন্যূনতম একটি আসনেও হতে পারে। তবে কোন কোন আসনে ইভিএম ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

নির্বাচনের শিডিউল (তফসিল) ঘোষণা হলে বলা যাবে। ’
জুন মাসে ইভিএম নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নেয় ইসি। এতে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টিসহ ২৮টি দল মতামত দিয়েছে। দুটি দল কমিশনের সঙ্গে বসে সময় নষ্ট না করার অজুহাতে লিখিতভাবে মতামত পাঠিয়ে দেয়। সব মিলিয়ে বিএনপিসহ ১১টি দল আসেনি।
জুলাই মাসে নির্বাচন সামনে রেখে উন্মুক্ত আলোচ্যসূচি নিয়ে সংলাপ ডাকে ইসি। বিএনপিসহ ৭টি দল সংলাপ বর্জন করে। দুটি দল পরে বসবে বলে জানিয়েছে। দুটি দল সংলাপে না এসে মতামত জানিয়ে দেয়। আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিসহ বাকি ২৮ দলের সংলাপে সব মিলিয়ে তিন শতাধিক প্রস্তাব আসে ইসির কাছে।

যারা আলোচনায় অংশ নিয়েছে, তাদের মধ্যে অর্ধেক এই যন্ত্র ব্যবহারের কথা বলেছে। বাকি অর্ধেক দল বলেছে, এই যন্ত্র ব্যবহার করা উচিত হবে না। অন্যদিকে বিএনপি ও তার জোটের শরিকদের অবস্থান হলো, বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে তারা কোনো ভোটে অংশ নেবে না। তারা ইভিএম ব্যবহারেরও ঘোর বিরোধী। সেই হিসেবে ইভিএমের বিরোধিতাকারীর সংখ্যাই বেশি।
ইভিএম ব্যবহার নিয়ে যেসব দল আপত্তি তুলেছে তাদের বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে কমিশনের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার বলেন, ‘এটা কমিশনের সিদ্ধান্ত। কমিশন সব বিষয় আমলে নিয়েই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ’
কোন কোন বিষয় আমলে নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে অশোক কুমার দেবনাথ বলেন, ‘কমিশন অভ্যন্তরীণভাবে আলোচনা করে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে কমিশনের বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা আসেনি। ’
বর্তমানে ইসির হাতে দেড় লাখ ইভিএম রয়েছে জানিয়ে অশোক কুমার বলেন, ‘আমাদের কাছে যা ইভিএম রয়েছে তা দিয়ে ৭০-৮০টি আসনে নির্বাচন করা সম্ভব। বাকি আসনগুলোর জন্য নতুন করে যন্ত্র কিনতে হবে ইসিকে। ’

এর আগে গত সোমবার সংলাপের একটি সারসংক্ষেপ তৈরি করে বিভিন্ন বিষয়ে ১০টি প্রস্তাব আমলে নিয়ে সেখানে ইসি মতামত তুলে ধরে। সারসংক্ষেপটি নিবন্ধিত ২৮টি দল, আইন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পাঠানো হয়েছে।
সেখানে বলা হয়, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ চাইলেও কোনো দলকে নির্বাচনে অংশ নিতে বাধ্য করতে পারে না এবং সে ধরনের কোনো প্রয়াস নেবে না ইসি। প্রতিটি কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অসামরিক বাহিনীর সদস্যদের সংখ্যা অপ্রতুল হতে পারে। এ কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনা মোতায়েনের প্রস্তাবটি যৌক্তিক মনে করে ইসি।