ক্রীড়া প্রতিবেদক
পাওয়ার প্লেতে ঝড় তুলতে না দিয়ে শ্রীলংকার উইকেট নেয় পাকিস্তান। অর্ধ ইনিংস শেষেও তা অব্যাহত রেখেছে পাক বোলাররা। ১০ ওভারে তাই হারাতে হয়েছে ৫ টপ অর্ডারকে। রান এসেছে মাত্র ৬৭।
লংকান ব্যাটারদের হাত খোলার সুযোগই দেননি হারিস রউফরা। প্রথম ১০ ওভারে যেন ধুকেছেন শ্রীলংকার ব্যাটাররা।
আগের ম্যাচে বিশ্রাম পাওয়া তরতাজা নাসিম শাহ তাই ইনিংসের তৃতীয় বলেই ঘণ্টায় ১৪২ কিলোমিটার গতির বল ছুঁড়লেন। যা কুশল মেন্ডিস সামলাতে পারেননি, এলোমেলো হয়ে যায় তার স্টাম্প। টুর্নামেন্টে শ্রীলংকার অন্যতম সেরা ব্যাটার ফিরেন গোল্ডেন ডাক পেয়ে।
ফাইনালের আগে দলের ৪৫ শতাংশ রানই এসেছিল উদ্বোধনী জুটি থেকে। যেখানে কুশল মেন্ডিসের সঙ্গী ছিলেন পাথুম নিশাংকা। তাই শুরুতেই উইকেট হারানোটা লংকানদের জন্য বড় ধাক্কা। সে ধাক্কা সামলে নেওয়ার চেষ্টা অবশ্য চালাচ্ছিলেন ধনানঞ্জয়া ডি সিলভা ও নিশাংকা।
পাকিস্তানের গতির জবাব দারুণ টাইমিংয়ে দিচ্ছিলেন তারা। মোহাম্মদ হাসনাইনের ওভারে দুই চার মারেন ধনঞ্জয়া ডি সিলভা, দুটিই কাভার দিয়ে। পরের ওভারে নাসিম শাহকে কাভার দিয়ে আরেকটি চার মারেন নিশাংকা।
তবে পাক বোলারদের গতির মোকাবেলা করতে গিয়ে এক পর্যায়ে মুখ থুবড়ে পড়েন নিশাংকা। হারিস রউফের বলটা ঠিক স্লটে না থাকলেও আক্রমণাত্মক হতে গিয়ে তুলে মেরেছিলেন তিনি, তবে ঠিকঠাক টাইমিং হয়নি। মিড অফ থেকে পেছনে ছুটে গিয়ে ক্যাচ নিয়েছেন বাবর আজম। নিজের প্রথম ওভার করতে এসেই সফল হন রউফ। নিশাংকা ফিরেন ১১ বলে ৮ রান করে।
দুই ওপেনারকে হারানোর ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই তৃতীয় উইকেটের পতন হয় লংকানদের। হারিস রউফের বলের গতিতে যেন দিশেহারা গুনাথিলাকা। অফ স্টাম্পে একটু বাইরে পিচ করে বল ঢুকেছিল ভেতরের দিকে, উড়ে গেল অফ স্টাম্প। ঘণ্টায় ১৫১ কিলোমিটার গতির ডেলিভারিটির কোনো জবাবই ছিল না বাঁহাতি দানুশকা গুনাতিলাকার কাছে। ৪ বলে ১ রান করে ফিরে গেলেন তিনি।
এরপরেই আরেক বাঁহাতি ভানুকা রাজাপাকসেকেও ফেরাতে পারতেন রউফ। তার ইয়র্কার মিস করে গিয়েছিলেন রাজা, লেগেছিল বুটে। পাকিস্তানের জোরাল আবেদনে অবশ্য সাড়া দেননি আম্পায়ার মাসুদুর রহমান। বাবর আজম রিভিউ নিয়েছিলেন, তবে উইকেটে হয়েছে আম্পায়ার্স কল। মাসুদুরের সঙ্গে এরপর মজা করতে দেখা গেছে শাদাব খানকে। আম্পায়ারকে দুই হাত আড়াআড়ি নাড়ানোর বদলে আঙুল তুলতে বলছিলেন তিনি।
তবে রউফের গতি ঝড়ে টিকলেও ইফতিখার আহমেদের স্পিন ঘূর্ণিতে কুলিয়ে উঠতে পারেননি সিলভা। এবারের এশিয়া কাপে এর আগে এক ইনিংসেই শুধু বোলিং করেছেন ইফতিখার, হংকংয়ের বিপক্ষে। সেই ইফতিখারের ওপর চড়াও হতে গিয়ে ফিরতি ক্যাচ দিলেন ধনঞ্জয়া ডি সিলভা! ওভার দ্য উইকেট থেকে বোলিং করা ইফতিখারকে টেনে মারতে চেয়েছিলেন, তবে ইফতিখারকেই পার করাতে পারেননি এখন পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার সেরা ব্যাটসম্যান।
সিলভার পর শাদাব খানকে স্লগ করতে গিয়ে বোল্ড হলেন অধিনায়ক দাসুন শানাকা। যে লেংথে ছিল, আড়াআড়ি অমন শট তাতে হওয়ার কথা নয়। তবে শানাকা উচ্চাভিলাষী হতে গেলেন, ভুলও করলেন। ইনিংসে তৃতীয় শ্রীলঙ্কান ব্যাটসম্যান হিসেবে বোল্ড হলেন শানাকা, ৩ বলে ২ রান করেই।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ১২ ওভার শেষে শ্রীলংকা ৮৫ রান সংগ্রহ করেছে। পাকিস্তান শিকার করেছে ৫টি উইকেট।




