তাওসিফ মাইমুন

রামপুরা কাঁচাবাজারে সবজি কিনতে আসেন বিপুল। তিনি জানান, ‘বাজারে এখন সব জিনিসের দাম চড়া। সবজি থেকে শুরু করে চালের বাজারে কোথাও ঘাটতি নেই। তবুও সব কিছুর দাম বেশি।

এ জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় তালিকা থেকে অনেক কিছু বাদ দিয়েও বাজার করতে এসে খরচের সঙ্গে তাল মেলাতে পারছি না। প্রতি সপ্তাহে কোনো না কোনো কিছুর দাম বাড়ছে। গত সপ্তাহের থেকে এ সপ্তাহের সবজি-ডিমের দাম অনেক বেড়েছে। অল্প কিছু কিনলেও পকেট ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। ’

এটি শুধু বিপুলের একার অবস্থা নয়, মধ্যম আয়ের সব মানুষের একই চিত্র। মাছ-মাংসের পরিবর্তে এসব মানুষের খাবার তালিকার শীর্ষে ছিল ডিম। এবার সেই ডিমের দামও বেড়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর খুচরা বাজারগুলোতে প্রতি হালি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা করে। আর প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪৫-১৫০ টাকা।

এছাড়াও কাঁচা বাজারেও সব ধরনের সবজি কেজিতে ১০-১৫ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি হতে দেখা গিয়েছে।

পাইকারি ও খুচরা বাজারের সবজি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চাহিদার তুলনায় বাজারে সবজির সরবরাহ কম থাকায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। গত সপ্তাহের তুলনায় প্রতি কেজি সবজি ১০ টাকা বেশিতে বিক্রি হচ্ছে। আবার কোনো সবজিতে অস্বাভাবিকভাবে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানান।

হঠাৎ করে সবজির দাম বৃদ্ধির বিষয় জানতে চাইলে কারওয়ান বাজারের সবজি ব্যবসায়ী আরিফ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত সপ্তাহেও ৫০ টাকা কেজি শসা বিক্রি করেছি। তবে গত দুই-তিন দিনের মধ্যে এর দাম অনেকটা বেড়েছে। বাজারে সরবরাহ কম থাকায় শসা ছাড়াও সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। ’

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, সব ধরনের বেগুনে ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়, শসা ৬০-৭০ টাকা, কাঁকরোল ৬০ টাকা। যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছিল ৪৫-৫০ টাকায়। এছাড়া আলু ৩০-৩২ টাকা, ২০ টাকা বেড়েে কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৮০-৯০ টাকা, ৪০ টাকার পটোল ৬০ টাকা, বরবটি ৭৫-৮০ টাকা, কচুমুখী ৭০ টাকা ও মিষ্টিকুমড়ার কেজি ৫০-৫৫ টাকা, ভে-ি ৬০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, উচ্ছে ৮০ টাকা, মুখীকচু ৭০ টাকা, কচুর লতি ৭০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৫০ টাকা, চিচিংগা ৭০ টাকা, ঝিঙ্গা ৮০ টাকা, পেঁপে ২৫ টাকা, কাঁচকলার হালি ৩০ টাকা, টমেটো কেজিপ্রতি ১৪০ টাকা ও গাজর কেজিপ্রতি ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পেঁয়াজের কেজি ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, রসুন ৮০ থেকে ১২০ টাকা, আদা ১২০ টাকা হয়েছে।

এদিকে ডিমের বাজার ঘুরে জানা যায়, ফার্মের লাল ডিমের হালি ৫০ টাকার নিচে কোথাও বিক্রি হচ্ছে না। যা গত সপ্তাহেও ৪২-৪৪ টাকা হালি কিনেছেন ক্রেতারা। এখন ডজনপ্রতি ১৪৫-১৫০ টাকায় বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। হাঁসের ডিমের হালি বিক্রি হচ্ছে ৬৮ থেকে ৭০ টাকা দরে।

বাড্ডা বাজারের ডিম বিক্রেতা ফারুক হোসেন ডিমের মূল্যবৃদ্ধির জন্য পাইকার ও উৎপাদনকারীদের দায়ী করে বলেন, ‘আমারা পাইকারদের থেকে যেভাবে কিনে আনছি সেভাবে ডিম বিক্রি করছি। ডিমের দাম বাড়ার পেছনে আমাদের হাত নেই। এর পেছনে পাইকাররা জড়িত। ’

এদিকে চালের খুচরা বাজারে আটাশ চালের কেজি ৬০ টাকা, মিনিকেট ৭০-৭৫ টাকা, গুটি স্বর্ণা ৫৫ টাকা, স্বর্ণ ৫০ টাকা, নাজিরশাহ ৮০ টাকা কেজি। মোটা ডাল কেজি ১১০ টাকা, চিকন ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গিয়েছে।
মুরগির বাজার ঘুরে দেখা যায়, ব্রয়লার মুরগির কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে হয়েছে ১৮০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ১৭০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এছাড়া লেয়ার মুরগি ৩০০ টাকা কেজি এবং সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা কেজি।

মহাখালী বাজারে আসা এক ক্রেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা এখন উন্নত দেশের জনগণ। তাই তো দেশে টাকার মালিকদের ছড়াছড়ি আর নিত্যপণ্যের বাজারের বেহাল দশা। আমাদের মতো সাধারণ জনগণের বিপদ বাড়ছে। না বাড়ছে বেতন, না হচ্ছে অল্প টাকায় বাজার। টাকার স্বল্পতার জন্য বাজারে এলেই কিছু না কিছু বাদ রেখে যেতে হচ্ছে। ’

তবে দাম অপরিবর্তিত আছে মাছের বাজারে। প্রতি কেজি ইলিশ ১২’শ থেকে ১৩’শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, নলা জাতীয় মাছ ২৫০ টাকা, পাঙাশ মাছ ১৮০-১৯০ টাকা, মৃগেল ২৮০ টাকা, দেশি সরপুঁটি ৫৫০ টাকা, বড় রুই ৪৫০ টাকা ও তেলাপিয়া ১৭০-১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।