উখিয়া ও টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে জান্তাবিরোধীদের সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর সংঘর্ষ এখনো অব্যাহত রয়েছে। জানা গেছে, মিয়ানমার জান্তাবিরোধী সশস্ত্র বিদ্রোহীরা উত্তর সীমান্তে একেকটি সেনা ঘাঁটি দখল করে এবার মংডুর দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, এ কারণে আগামী কয়েকদিন টেকনাফ সীমান্তে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে উত্তেজনা বাড়তে পারে।

সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ভোররাতের পর থেকে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের উলুবনিয়া ও খারাইংগা ঘোনা সীমান্তে মিয়ানমারের ভেতরে নতুন করে গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে।

থেমে থেমে গোলাবর্ষণ অব্যাহত থাকায় আতঙ্কে রয়েছে স্থানীয়রা। তবে উত্তরের নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু, উখিয়ার রহমতের বিল ও আনজুমান পাড়া সীমান্তের কাছাকাছি মিয়ানমারে গোলাগুলি ও মর্টারের শব্দ শোনা যায়নি।

খারাইংগা ঘোনার বাসিন্দা মোহাম্মদ জাফর বলেন, সোমবার ভোররাত থেকে মিয়ানমারে গোলাগুলির শব্দ শুনেছি। যেহেতু সীমান্তে বসবাস করি, তাই একটু আতঙ্কে আছি। কিন্তু আমরা তো সাধারণ মানুষ কী করব ভেবে পাচ্ছি না।

সীমান্তে বসবাসকারী আবুল কালাম জানান, সীমান্তে গোলাগুলির বিকট শব্দে এপারের লোকজন আতংকের মধ্যে রয়েছে। হোয়াইক্যংয়ের ১ ও ২ নং ওর্য়াডের লোকজন আতংকের মধ্যে রয়েছে। ইতোমধ্যে জনপ্রতিনিধিরা আমাদের তালিকা তৈরি করে নিয়ে গেছেন। নাফ নদীর কাছাকাছি থাকায় অনেক ভয়ে আছি।

হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সিরাজুল মোস্তফা লালু জানান, সকাল ৯টার দিকে যখন তিনি বাড়ি থেকে বের হন, তখনো মর্টারের আওয়াজ শোনেন। এর আগে রাতেও মর্টারের বিকট শব্দ শুনেছেন। তার নিজের বাড়িটিও সীমান্তে তাই নিজেও আতংকে আছেন। এ ব্যাপারে পরিষদের পক্ষ থেকে সীমান্তবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের তালিকা তৈরির নির্দেশ ছিল। তিনি তার ওয়ার্ড থেকে সীমান্তের অতিনিকটবর্তী ৩৩০ পরিবারের তালিকা জমা দিয়েছি।

হোয়াইক্যং ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী বলেন, তুমব্রুর পর এবার টেকনাফ সীমান্তে গোলাগুলির শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে সীমান্তের দুই গ্রামের মানুষ আতঙ্কের মধ্য রয়েছে। পরিস্থিতি আরো অবনতির দিকে গেলে প্রশাসনের সহায়তায় নিরাপত্তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে মিটিং হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নুরুল ইসলাম জানান, তাদের বেশকিছু আত্মীয় স্বজন এখনো মিয়ানমারে রয়েছে। তারা ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের সহিংসতার সময়ও সেখানে থেকে যায়। তাদের সাথে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগে জেনেছেন, মিয়ানমারের জান্তাবিরোধী সশস্ত্র বিদ্রোহীরা তুমব্রু থেকে একের পর এক এলাকা দখল করে এখন মংডুর পথে অগ্রসর হচ্ছে। তবে আশঙ্কা রয়েছে মিয়ানমার জান্তা সরকার মংডুতে নিজেদের অস্তিত্ব হারালে বিমান বা ড্রোন হামলার মতো বড় ধরনের হামলা করতে পারে।

এ ব্যাপারে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এরফানুল হক চৌধুরী বলেন, এই সীমান্তে গোলাগুলির খবর জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে শুনেছি। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে সীমান্তের ৩০০ মিটারের ভেতরে বসবাসকারীদের তালিকা করা হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী তাদের বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আমরা তাদের খোঁজ খবর রাখছি।

গোলাগুলির ব্যাপারে খোঁজ নিচ্ছেন উল্লেখ করে টেকনাফ ২-বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল শেখ খালিদ মোহাম্মদ ইফতেখার বলেন দিন- রাত ২৪ ঘণ্টা সীমান্তেবিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত আছি। অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে।