ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘ময়মনসিংহের মুক্তিকামী জনগণকে ধন্যবাদ দিতে চাই, কারণ তারা গণতন্ত্র রক্ষা করতে নিজেদের অধিকার আদায়ে অবস্থান নিয়ে আজকের এই সমাবেশকে জনসমুদ্রে পরিণত করছেন। আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ বলেছিল এই সমাবেশকে প্রতিহত করবে। কিন্তু মুক্তিকামী মানুষের জনস্রোত দেখে ছাত্রলীগের সোনার ছেলেরা লেজ গুটিয়ে পালিয়েছে। ‘
শনিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে ময়মনসিংহ বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘সরকারকে আহ্বান করছি অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে নিঃশর্ত মুক্তি, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা ও সকল সভা সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টির করার। সরকারকে পদত্যাগ করে সংসদ বিলুপ্ত করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। গণতন্ত্রের নামে একনায়কতন্ত্র কায়েম করতে দেব না। গত ১৫ বছরে সরকার সবকিছু ধ্বংস করে দিয়েছে। মানুষের ভোটের অধিকার ধ্বংস করেছে। দলীয় সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। গাইবান্ধার উপ-নির্বাচন এর উৎকৃষ্ট প্রমাণ। এই সরকারের উচিত অনতিবিলম্বে পদত্যাগ করে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দেওয়া। ‘

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ বলেছিলো ১০ টাকা কেজি চাল দেবে, এসব তাদের জনগণের সাথে ধোকাবাজির কথা।

বর্তমানে জ্বালানি তেল, চাল-ডালসহ নিত্যপণ্যের মূল্য লাগামহীন। জিনিসপত্রের দাম নিয়ে মানুষ খুব অসহায় অবস্থায় আছে। সরকার সাংবাদিকদের অধিকার খর্ব করতেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাস করেছে। ফেসবুক নিয়ন্ত্রণ করতেই এই আইন পাস করিয়েছে।

এর আগে নগরীর পলিটেকনিক ইস্টিটিউট ছাত্রবাস মাঠে সমাবেশের মঞ্চে একটি চেয়ার ফাঁকা রেখে দুপুর ২টায় বিভাগীয় গণসমাবেশ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। সভা শুরুর আগেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রাবাস মাঠ। সকাল থেকে ধানের শীষ ও জাতীয় পতাকা, দলীয় পতাকা ও নেতাকর্মীদের ছবি সম্বলিত ব্যানার হাতে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে মাঠে অবস্থান নেয় নেতাকর্মীরা।