থার্ডআই ডেস্ক

সঠিকভাবে হিজাব না করার অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর পুলিশি হেফাজতে নিহত মাহসা আমিনির মৃত্যুর ৪০তম দিনে ইরানজুড়ে তুমুল বিক্ষোভ হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যার পর রাজধানী তেহরান সহ পুরো ইরানজুড়ে লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে আইন অমান্য করে বিক্ষোভ করেছেন।
নারীর পোশাকে স্বাধীনতার দাবিতে ও ইসলামি শাসনের বিরুদ্ধে বুধবার রাতে ইরানের প্রায় সব বড় বড় শহরেই বিক্ষোভ হয়েছে। অন্তত ৩০টি বড় শহরে বিক্ষোভ হয়েছে গতকাল রাতে।

তেহরানের প্রধান রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে হাজার হাজার বিক্ষোভাকারী ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির দিকে ইঙ্গিত করে ‘স্বৈরশাসকের মৃত্যু চাই’ বলে স্লোগান দিয়েছেন। ইরানের বিক্ষোভে এই স্লোগান এখন প্রতিদিনই দেওয়া হয়।
তেহরানের ২৭ বছর বয়সী এক বিক্ষোভকারী বিবিসি পারসিয়ানকে বলেন, ‘সমাজ আজ খুবই ক্ষুব্ধ হয়ে আছে। এবার এই ইসলামি নেতাদের শাসনের অবসান হওয়ার দরকার। আমি এই লোকদের না বলার অধিকার পেতে চাই। শুধু নারী হওয়ার কারণে  দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসেবে গণ্য হতে হতে আমি ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। পুরুষরাও এই শাসকদের ভয়ে ক্লান্ত। দেশের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো আমরা ‘নারী, জীবন এবং স্বাধীনতা’র মতো একটি লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করছি। ’

বিবিসি এবং স্বাধীন কোনো মিডিয়ার ইরান থেকে রিপোর্ট করার অনুমতি নেই।

তাই দেশটির ভেতরে থেকে আসা এবং সোশ্যাল মিডিয়ার ভিডিওগুলো সেখানে আসলে কী ঘটছে তা বোঝার একমাত্র উপায়।
বিবিসি ফার্সি এবং বিবিসি মনিটরিং-এর কর্মীরা শুরু থেকেই বিক্ষোভের ওপর নজর রাখছেন। শায়ান সরদারিজাদেহ নামে বিবিসির একজন সাংবাদিক সেই ভিডিওগুলো দেখে বলেছেন, ইরানের বিক্ষোভে যে ক্ষোভের মাত্রা এখন তিনি দেখছেন এমনটা আগে কখনো দেখা যায়নি।
তিনি বলেন, বুধবারের বিক্ষোভ ছিল ‘বিশাল’ এবং ছয় সপ্তাহ আগে আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থেকে সম্ভবত সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে ভৌগলিকভাবে বিক্ষিপ্ত বিক্ষোভের দিন।