নিজস্ব প্রতিবেদক
খোলাবাজারে ডলারের দাম বেশি থাকা ও ব্যাংকিং চ্যানেলের চার্জ কাটায় বিভিন্ন প্রবাসী বাংলাদেশিরা হুন্ডিতে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন বলে অভিযোগ। এতে দেশে ডলারের সংকট বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার প্রভাব পড়ছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে। এ কারণে এখন থেকে রেমিট্যান্সের বিপরীতে চার্জ কাটবে না ব্যাংকগুলো।
চলমান ডলার সংকটে বৈধভাবে রেমিট্যান্স বাড়াতে এ উদ্যোগ নিয়েছে ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন এবিবি ও বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী ব্যাংকগুলোর সংগঠন বাফেদা। একই সঙ্গে বিদেশে রেমিট্যান্স সংগ্রহ বাড়াতে ছুটির দিনেও নিজস্ব এক্সচেঞ্জ হাউস খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠনটি।
এ সিদ্ধান্ত সোমবার থেকেই কার্যকর হবে।
রোববার সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় এবিবি ও বাফেদার মধ্যে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।
বৈঠক শেষে সোনালী ব্যাংকের এমডি ও বাফেদার চেয়ারম্যান আফজাল করিম বলেন, ‘বাফেদা ও এবিবির ধারাবাহিক বৈঠকের মতোই আমাদের আজকের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সর্বসম্মতিক্রমে এখন থেকে ব্যাংকগুলো ১০৭ টাকায় রেমিট্যান্স এবং ১০০ টাকায় রপ্তানি আয় সংগ্রহ করবে। পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের সুবিধার্থে রেমিট্যান্স পাঠানোর চার্জ মওকুফ করা হয়েছে। কোনো ধরনের খরচ ছাড়া আগামীকাল (সোমবার) থেকে প্রবাসীরা দেশে রেমিট্যান্স পাঠাতে পারবেন। শুধু তাই না, ছুটিরদিনগুলোতেও এখন রেমিট্যান্স পাঠাতে পারবেন প্রবাসীরা।
কারণ ছুটিরও এক্সচেঞ্জ হাউজ খোলা রাখা হবে। ’
এর আগে ডলার সংকট নিরসনে গত ২৩ অক্টোবর প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের বিপরীতে ডলার কেনার সর্বোচ্চ দর ৫০ পয়সা কমিয়ে ১০৭ টাকা করা হয়। আর রপ্তানি বিল ৫০ পয়সা বাড়িয়ে করা হয় ৯৯ টাকা ৫০ পয়সা। গত ২৬ সেপ্টেম্বর এক সভায় প্রবাসী আয়ে ১০৭ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। রপ্তানি আয়ে ৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তার আগে গত ১১ সেপ্টেম্বর প্রথম ব্যাংকারদের সভায় রেমিট্যান্সের ডলার ১০৮ টাকায় কেনার সিদ্ধান্ত হয়।
এদিকে বৈদেশিক মুদ্রার সংকটের এ সময়ে বৈধ পথে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স বাড়াতে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এখন বিদেশ থেকে যেকোনো পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠাতে কোনো ধরনের কাগজপত্র লাগে না। আবার প্রবাসী আয়ের ওপর আড়াই শতাংশ হারে প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। নানা পদক্ষেপ নিয়েও রেমিট্যান্স বাড়াতে পারছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স ধারাবাহিক কমছে।




