নিজস্ব প্রতিবেদক
বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিএনপি নেতাকর্মীদের হত্যায় উৎসাহী হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলটি বলছে, পতনের আগে সরকার মরণকামড় দিচ্ছে। এখন আওয়ামী অবৈধ সরকার জনপদের পর জনপদকে বধ্যভূমি বানিয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ এসব হত্যার বিচার করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
আজ শনিবার কুমিল্লা বিভাগীয় বিএনপির গণসমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে লিফলেট বিতরণের সময় পুলিশের গুলিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাধীন বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সোনারামপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসভাপতি মো. নয়ন মিয়া নিহত হয়। এর প্রতিবাদে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসরাম আলমগীর।
মির্জা ফখরুল নয়নকে গুলি করে হত্যার পৈশাচিক ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং শোক প্রকাশ করে বিবৃতিতে বলেন, ‘বর্তমান নিষ্ঠুর ও গণবিরোধী সরকার ফ্যাসিবাদী কায়দায় বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসহ বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের ওপর নিষ্ঠুর দমন-নিপীড়ন জারি রেখেছে। নিজেদের একদলীয় দুঃশাসন চিরস্থায়ী করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিজেদের কবজায় নিয়ে বিরোধী নেতাকর্মীদের গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা শুরু করেছে। দেশ এখন ভয়ঙ্কর ঘাতকদের কবলে। শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনকালে বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিবর্ষণ ও হত্যার ধারাবাহিকতায় আজ মো. নয়ন মিয়াকে গুলি খেয়ৈ মরতে হলো। এভাবে গুলি চালিয়ে পৈশাচিক কায়দায় মানুষ হত্যার মরণখেলায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে কর্তৃত্ববাদী নব্য বাকশালী সরকার।’
তিনি বলেন. ‘সরকার দেশ শাসনে নজিরবিহীন ব্যর্থতা ঢাকতেই এখন ঘাতকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। তবে সরকারের সকল অপকর্ম ও অপশাসনের মূলোৎপাটনে জনগণ সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। মানুষ হত্যার মতো নির্দয় কর্মকাণ্ড বন্ধসহ জনদাবি মেনে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করলে বর্তমান সরকারকে জনগণের নিকট হিসাব দিতেই হবে।’
বিএনপি মহাসচিব পুলিশের গুলিতে নিহত ছাত্রদল নেতা মো. নয়ন মিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকাহত পরিবার-পরিজনদের গভীর সমবেদনা জানান।




