ক্রীড়া প্রতিবেদক

জাতিসংঘের একটি প্রকল্পে যুক্ত হয়েছে ফিফা। তার স্লোগান সংবলিত আর্মব্যান্ড পরে অধিনায়কদের খেলতে বলেছে ফিফা। তবে সেখানে হ্যারি কেইনসহ অনেকেই আপত্তি জানিয়েছিলেন। সবার আগে আপত্তির কথা জানিয়েছিলেন জার্মানির অধিনায়ক ম্যানুয়েল নয়্যার। জরিমানা দিয়ে হলেও সেটা এড়িয়ে যেতে চেয়েছেন তিনি।
এরপর ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলোও একইভাবে আপত্তি জানাতে থাকে। ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেইন সমকামিতাকে সমর্থন করে ‘ওয়ান লাভ’ আর্মব্যান্ড পড়ে খেলেতে চেয়েছিলেন। তারপর কঠোর অবস্থান নেয় ফিফা। ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই নিয়ম না মানলে ‘হলুদ কার্ড’ দেখতে হবে অধিনায়কদের। এই শাস্তির ভয়ে ইরানের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচে পিছু হটেছেন হ্যারি কেইন। খেলতে নেমেছিলেন নিজের পছন্দের আর্মব্যান্ড ছাড়াই।

ফিফার হুমকিতেই নিজেদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে ইউরোপীয় দেশগুলো। এক যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলো জানিয়েছে, ‘ফিফা এ ব্যাপারে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। আমাদের অধিনায়কেরা যদি বিশ্ব ফুটবল সংস্থার নির্ধারিত আর্মব্যান্ডের বাইরে অন্য কোনো আর্মব্যান্ড পরেন, তাহলে তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে। ফিফার আইনেই বলা আছে, তাদের অননুমোদিত সরঞ্জাম নিয়ে যদি কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচে খেলোয়াড়েরা খেলতে নামেন, তাহলে তাদের হলুদ কার্ড দেখানো হবে।’

তারা আরও জানিয়েছে, ‘দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন হিসেবে আমরা আমাদের খেলোয়াড়দের নিষেধাজ্ঞা বা কোনো শাস্তির মুখে ঠেলে দিতে পারি না। সুতরাং আমরা আমাদের অধিনায়কদের এ ধরনের কোনো আর্মব্যান্ড না পরারই নির্দেশনা দিয়েছি।’

ইংল্যান্ড ও জার্মানি ছাড়াও এই যৌথ বিবৃতিতে অংশ নিয়েছে নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, ওয়েলস ও সুইজারল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।

এদিকে আজ দিনের অন্য ম্যাচে মাঠে নামবে নেদারল্যান্ডস ও সেনেগাল। এই ম্যাচেও ডাচ অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইক ‘ওয়ান লাভ’ আর্মব্যান্ড পরতে চেয়েছিলেন। কিন্তু হলুদ কার্ডের শাস্তি নিয়ে তিনি নিজের শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাঁকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেছেন, ‘আমি এই আর্মব্যান্ড পরতে চাই। কিন্তু এর জন্য যদি আমাকে হলুদ কার্ড দেখানো হয়, তাহলে ব্যাপারটা নিয়ে ভাবব। হলুদ কার্ড দেখে ম্যাচ শুরু করতে মোটেও ভালো লাগবে না আমার।’

পরে মাঠে আর তাকে পছন্দের আর্মব্যান্ড পরে নামতে দেখা যায়নি। তিনি তো পিছু হটেছেনই। নয়্যার কি নিজের সিদ্ধান্তেই অটলে আছেন, নাকি কেইনের মতো তিনিও ফিফার বাধ্যগত ফুটবলার হবেন?