থার্ডআই ডেস্ক

ইউক্রেনে নয় জাপানে হামলা করতে চেয়েছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন! এমনকি ২০২১ সালের আগস্টে জাপানে আক্রমণের জন্য প্রস্তুতিও নিচ্ছিল রাশিয়া। তবে কয়েক মাস পর মত পাল্টে ইউক্রেনে পুরোদমে অভিযান শুরু করে দেশটি।
সস্প্রতি রাশিয়ার কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থার (এফএসবি) এক সদস্য এ তথ্য ফাঁস করেছেন। নিজের পরিচয় গোপন রেখে ‘উইন্ড অফ চেঞ্জ’ ছদ্মনামে এফএসবি-র বহু গোপন নথি ফাঁস করে দিয়েছেন তিনি। গত মার্চ মাসের ১৭ তারিখে রুশ মানবাধিকার কর্মী ভ্লাদিমির ওসেচকিনকে ইমেইলে একটি চিঠি লেখেন এফএসবি’র ওই এজেন্ট।

সেখানে দাবি করা হয়েছে, শুরুতে জাপান আক্রমণ করতে চেয়েছিলেন পুতিন। কিন্তু পরে সেই সিদ্ধান্ত বদল করে ইউক্রেনে হানা দেয় রুশ বাহিনী। ভ্লাদিমির ওসেচকিন গুলাগু ডটনেট নামে দুর্নীতিবিরোধী একটি ওয়েবসাইট পরিচালনা করেন। বর্তমানে ফ্রান্সে নির্বাসনে আছেন তিনি। পুতিন প্রশাসনের বিরুদ্ধে সরব হওয়ায় ওসেচকিনের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। তাই দুর্নীতি বিরোধী ওয়েবসাইট ‘Gulagu.net’-এর কর্ণধার আপাতত ফ্রান্সে নির্বাসনে রয়েছেন।
রুশ এজেন্ট ‘উইন্ড অফ চেঞ্জ’-এর ফাঁস করা নথিতে বলা হয়েছে, পুতিনের ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে এফএসবি-র ভেতরেও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সেখানে আরও বলা হয়েছে, ২০২১ সালের আগস্ট মাসে জাপানে হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন পুতিন। তবে কেন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি তা নিয়ে মুখ খোলেননি ওই এজেন্ট।

ইউক্রেনে রাশিয়ার অভিযান শুরুর পর এ নিয়ে এফএসবির অভ্যন্তরে যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল, সে সম্পর্কে নিয়মিত ওসেচকিনকে লিখে পাঠাতেন ওই কর্মী। ৪ মার্চ থেকে কয়েকটি ই-মেইল পাঠিয়েছেন তিনি।

ওয়াশিংটনভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান উইন্ড অব চেঞ্জ রিসার্চ গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক ইগর সুশকো রুশ ভাষায় লেখা সে ই-মেইলগুলো ইংরেজিতে ভাষান্তর করেছেন। ১৭ মার্চের ওই ই-মেইলসহ সব কটি ই-মেইলের ভাষান্তর তিনি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অনলাইন সাময়িকী নিউজ উইককে দিয়েছেন।

এফএসবি-সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টো গ্রোজেভ ই-মেইলটি পর্যালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, চিঠিটি এফএসবির দুই কর্মীকে (বর্তমান ও সাবেক) দেখানো হয়েছিল। তাঁরা বলেছেন, এটি যে তাঁদের কোনো সহকর্মীর লেখা, সে ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই।

উল্লেখ্য, কুরিল দ্বীপসমূপ নিয়ে রাশিয়া ও জাপানের মধ্যে বিবাদ রয়েছে। জাপেনের হোক্কাইদো দ্বীপ ও রাশিয়ার কামাচাতকা উপদ্বীপের মধ্যে অবস্থিত এই কুরিল দ্বীপসমূপ। প্রশান্ত মহাসাগর এবং ওখোতস্ক সাগরকে পৃথক করেছে ওই দ্বীপসমূপ। দ্বীতিয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের কাছ থেকে কুরিল দ্বীপপুঞ্জ দখল করে নেয় রাশিয়া। আজও সেগুলো মস্কোর দখলে। এই দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে বিরোধের জেরেই যে শান্তিচুক্তির মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবসান হয়েছিল, তাতে রাশিয়া ও জাপান কখনো সাক্ষর করেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, জাপানে মোতায়েন রয়েছে হাজার হাজার মার্কিন সেনা। তাই প্রশান্ত মহাসাগরে কৌশলগত ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কুরিল দ্বীপসমূপ নিজের দখলে রাখতে মরিয়া রাশিয়া। পাশাপাশি, আঞ্চলটির সামরিকীকরণ রুখতে জাপানে হামলা চালাতে চাইছিলেন পুতিন।