ক্রীড়া প্রতিবেদক
এমন বন্ধুত্ব মনে করিয়ে দিচ্ছে লিওনেল মেসি ও নেইমারকে। হয়তো বার্সেলোনার রোনালদিনহো ও মেসিকেও। এক ক্লাবে দুজনের পথচলা খুবই মসৃণ। জাতীয় দলেও সেই মসৃণতা বজায় রাখতে চান তারা। কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঝাঁজে তা সম্ভব হয় না। এই বিশ্বকাপে আশরাফ হাকিমি ও কিলিয়ান এমবাপ্পের এখন এমনই অবস্থা। পিএসজিতে একসঙ্গে খেলা দুজনের এত সুন্দর বন্ধুত্ব আজ প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঝাঁজে এদিক-ওদিকে হতে যাচ্ছে।
সেমিফাইনালে ফ্রান্স ও মরক্কোর লড়াই নিশ্চিত হওয়ার পর দুজনের মধ্যে যেই হৃদ্যতা দেখা যাচ্ছে, মাঠে লড়াইয়ে হয়তো এতটা হৃদ্যতা নাও দেখা যেতে পারে! তবে সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে পাওয়ার পরই হাকিমি এমবাপ্পেকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন, ‘দ্রুত দেখা হচ্ছে বন্ধু’।
ওদিকে স্পেনের বিপক্ষে শেষ টাইব্রেকারে লক্ষ্যভেদ করা হাকিমিকে ‘মরক্কোর রাজা’ বলেছেন এমবাপ্পে। তার টুইটটা ছিল এমন আশরাফ হাকিমি, পেঙ্গুইন ইমোজি, মুকুটের ইমোজি, দুই হাতে লাভ সাইন। স্পেনের সঙ্গে শেষ টাইব্রেক শুট নেওয়ার পর পেঙ্গুইনের মতো উদযাপন করেছিলেন হাকিমি। ঠিক যেমনটা এমবাপ্পে করে থাকেন। এখন এই বন্ধুত্ব মাঠে নামছে একে অপরকে হারাতে।
শুধু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই আটকে থাকেনি এমবাপ্পে-হাকিমি হৃদ্যতা। দোহায় হাকিমিদের টিম হোটেলে গিয়ে দেখা করে এসেছেন এমবাপ্পে। দুজনের সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখন ভাইরাল। বিশ্বকাপের মধ্যে দুই দলের ফুটবলারের এমন বন্ধুত্ব সচরাচর দেখা যায় না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একে অপরকে শুভকামনা জানানো পর্যন্ত ঠিক আছে। কিন্তু একেবারে বন্ধুর টিম হোটেলে গিয়ে উপস্থিত হওয়া কখনই দেখা যায় না।
সেই ব্যতিক্রম ভালোবাসা দেখিয়েছেন এমবাপ্পে। বিশ্বকাপে সচরাচর ফুটবলাররা নিজ দল নিয়েই ব্যস্ত থাকেন। নিজেদের পরিকল্পনা সাজানোতেই থাকে মূল ব্যস্ততা। এর মধ্যে বিরতি পেলে নিজেদের নিয়েই সময় কাটান। যেমন এবার মেসি ও রোনালদো পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন। কিন্তু এমবাপ্পে ছুটে গেছেন বন্ধু হাকিমির কাছে।
মরক্কো ও ফ্রান্সের দুই তারকার শুরুটা ২০২১-এ। রিয়াল মাদ্রিদের দ্বিতীয় রাইট ব্যাককে কিনে নেয় পিএসজি। সেই থেকে ফরাসি ক্লাবের সেরা একাদশের একজন হাকিমি। নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে বেশ নাম কুড়িয়েছেন। কানাডায় জন্ম নেওয়া হাকিমিকে বিশ্বসেরা রাইটব্যাক বলেছেন এমবাপ্পে। এ বছর জানুয়ারিতে কাতারের বিশ্বকাপ ভেন্যু দেখতে এসেছিল পিএসজি ক্লাব।
তখন এডুকেশন সিটি স্টেডিয়ামে এক সাক্ষাৎকারে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ পড়লে কী করবেন এমন প্রশ্ন এমবাপ্পে জানান, ‘এডুকেশন স্টেডিয়ামটি দারুণ। এখানে ৪০ হাজার সমর্থক ধরে। এখানে খেলাটাও বেশ উপভোগ্য হবে। তবে আমরা যদি মরক্কোর বিপক্ষে খেলি তবে হাকিমির মুখোমুখি হতে হবে। তখন আমার বন্ধুকে শেষ করে দিতে হবে। ওই ম্যাচে অবশ্যই আমরা জিতব।’




