ক্রীড়া প্রতিবেদক

খুবই বাজে সময় যাচ্ছিল মুমিনুল হকের। টেস্ট অধিনায়কত্ব হারানোর পর একাদশেও জায়গা হারান। ভারতের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টেও তার খেলার সুযোগ মেলেনি। তবে মিরপুর টেস্টে ফিরে রান পেলেন। বলা যায় দারুণ ব্যাটিংয়ে মুগ্ধতা ছড়ালেন। কিন্তু মুমিনুল রান পেলেও দিন শেষে হাসি নেই বাংলাদেশের। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে টস জিতে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। ৭৩.৫ ওভারে ২২৭ রানে থামে স্বাগতিকদের ইনিংস।

শেষ বিকেলে ব্যাটিংয়ে নেমে ৮ ওভারে ১৯ রান তুলে দিন শেষ করে ভারত। লোকেশ রাহুল ৩ ও শুভমান গিল ১৪ রানে অপরাজিত আছেন।
পেসারদের জন্য স্বপ্নের কন্ডিশন বলতে যা বোঝায়, সকালটা ছিল তেমনই। তিন পেসার নিয়ে খেলতে নামা ভারত অবশ্য প্রথম ঘণ্টায় কোনো উইকেট নিতে পারল না। পুরো প্রথম সেশনে পেল ২ উইকেট। এরপর দ্বিতীয় সেশনে পেল ৩ উইকেট।

স্বাগতিক দল ভালো কিছু জুটি গড়ল ঠিকই, কিন্তু আক্ষেপ সেগুলো বড় করতে না পারার। তৃতীয় সেশনে তো ১৪ রানের ব্যবধানে ৫ উইকেট হারিয়ে গুটিয়ে গেল আড়াইশর আগেই। প্রথম সেশনে ২৮ ওভারে ২ উইকেটে ৮২ রান তুলে টাইগাররা। দ্বিতীয় সেশনে ২৯ ওভারে যোগ করে ১০২ রান। কিন্তু এই সময়ে পড়েছে ৩ উইকেট। আর চা বিরতির পর ৫ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৪৩ রান যোগ করতে পেরেছে টাইগাররা।

সবশেষ ৯ ইনিংসে মুমিনুল পারেননি দুই অঙ্ক ছুঁতে। তবে এদিন সর্বোচ্চ ৮৪ রান করেন। তার ১৫৭ বলের ইনিংসে ছিল ১২ চার ও ১ ছক্কা। এছাড়া মুশফিকুর রহিম ২৬, লিটন দাস ২৫, নাজমুল হোসেন শান্ত ২৪ রান করেন। ভারতের পক্ষে সর্বাধিক ৪টি করে উইকেট নিয়েছেন উমেশ যাদব ও রবিচন্দ্রন অশ্বিন। ২ উইকেট নিয়েছেন এক যুগ পর টেস্ট খেলতে নামা জয়দেব উনাদকাট।

দিনের প্রথম ঘণ্টা বেশ ভালোভাবে কাটালেও নাজমুল হোসেন শান্ত ও জাকির হাসানের উদ্বোধনী জুটি থামে ৩৭ রানে। দুজন পর পর দুই ওভারে ফেরেন। জাকির ১৫ ও ২৪ রান করে আউট হন।
তিনে নামা মুমিনুল এরপর ভালো তিনটি জুটি উপহার দিয়েছেন। তৃতীয় উইকেটে সাকিব আল হাসানের সঙ্গে ৪৩, চতুর্থ উইকেটে মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে ৪৮ ও পঞ্চম উইকেটে লিটন দাসের সঙ্গে ৪২ রান যোগ করেন। ষষ্ঠ উইকেটে মেহেদী হাসার মিরাজের সঙ্গে উপহার দেন ৪১ রানের জুটি। অর্থাৎ দারুণ সম্ভাবনাময় জুটিগুলো থামে পঞ্চাশের আগেই।

লাঞ্চের পর প্রথম বলেই সাকিবকে (১৬) ফেরান উমেশ যাদব। মুশফিককে উনাদকাট এবং লিটনকে অশ্বিন ফেরান। চা বিরতির পর উমেশ যাবদের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মিরাজ। ব্যক্তিগত ১৫ রানে ফিরেছেন তিনি। এরপর এক রকম আসা যাওয়া মিছিল শুরু হয়। ৭৪তম ওভারে নবম ব্যাটার হিসেবে আউট হন মুমিনুল হক। তাকে ফেরান অশ্বিন। এক বল পরই খালেদ আহমেদকে তুলে নিয়ে বাংলাদেশের ইনিংস গুটিয়ে দেন অশ্বিন।