নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীতে ঢাবির চারুকলা অনুষদের সামনের রাস্তা থেকে প্রাইভেট কারের নিচে আটকে নীলক্ষেত মোড় পর্যন্ত টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ায় রুবিনা আক্তারে মৃত্যুর সেই মর্মান্তিক ঘটনায় গণধোলাইয়ের শিকার ঘাতক ঢাবির সাবেক শিক্ষক আজহার ওরফে জাফর শাহ (৫৬) মারা গেছেন।
আজ শুক্রবার (১৩ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার (কেরানীগঞ্জ) থেকে অচেতন অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
কেন্দ্রীয় কারাগারের কারারক্ষী মো. আলআমিন জানান, কারাগারে হাজতি হিসেবে বন্দি ছিলেন তিনি। সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়লে কারাচিকিৎসকের পরামর্শ তাকে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. বাচ্চু মিয়া তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আজহার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক। ২০০৭-২০০৮ সালের দিকে নৈতিক স্খলনের অভিযোগে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়।
নিহত রুবিনা আক্তারের বোনজামাই নুরুল আমিন জানান, তাদের বাসা হাজারীবাগের সেকশন এলাকায়। ঘনটার দিন (গত বছরের ২ ডিসেম্বর বেলা ৩টার দিকে) তেঁজগাও থেকে রুবিনাকে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে সেকশনে যাচ্ছিলেন। পথে শাহবাগ থানাধীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনের রাস্তায় প্রাইভেট কারটি পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। তখন রুবিনা পড়ে গেলে প্রাইভেট কারটি তার ওপর উঠিয়ে দেয়। এতে গাড়ির বাম্পারের সাথে আটকে যান তিনি। তখন তাকে টেনেহিঁচড়ে প্রায় নীলক্ষেত পর্যন্ত নিয়ে যায় প্রাইভেট কারটির চালক জাফর শাহ। তখন লোকজন তার পিছু নেয়। ধাওয়া দিয়ে নীলক্ষেত এলাকায় গিয়ে তার গতিরোধ করে গাড়ির নিচ থেকে ওই নারীকে বের করেন। ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে গেলেও বাঁচানো যায়নি তাকে।
তখন উত্তেজিত লোকজন ওই প্রাইভেট কারচালককে গণধোলাই দেয়। পরে পুলিশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে ভর্তি করায়। পরবর্তীতে নিহত রুবিনার পরিবার মামলা দায়ের করলে হাসপাতাল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। চিকিৎসা শেষে তাকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।




