সংযুক্ত শাবির ৬ কিলোমিটারের সীমানা প্রাচীর
শাবি প্রতিনিধি::

নানা সমস্যা পেরিয়ে ৩২০ একরের চতুর্দিক থেকে সংযুক্তির কাজ শেষ হয়েছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৬ কিলোমিটারের সীমানা প্রাচীর। ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে শুরু হওয়া বহুল প্রতীক্ষিত এ সীমানা প্রাচীরের নির্মাণ কাজ চতুর্দিক থেকে অবশেষে সংযুক্ত হয়েছে। তবে দেওয়াল প্লাস্টার, তাঁরকাটা স্থাপনসহ আনুষাঙ্গিক নানাবিধ কাজ এখনও অবশিষ্ট রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) চতুর্দিক থেকে সীমানা প্রাচীরের সংযুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।

ঊপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিভিন্ন মহল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি উদ্ধার, টিলার উপর নির্মাণ কাজ, নির্মাণ কাজে এলাকাবাসীর বাধা, সিলেট বৃষ্টি প্রবণ এলাকায় নির্মাণ কাজ পরিচালনাসহ নানা সমস্যা উপেক্ষা করে অবশেষে শেষ হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীরের কাজ।

‘নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে এ নির্মাণ কাজে’ উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, ‘সীমানা প্রাচীরের বিরোধিতা করে অনেকে আন্দোলন করেছে, অনেকে মিছিল মিটিংও করেছে। এমনকি জমি উদ্ধারের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলাও দায়ের করেছে। তারপরও আমরা এ কাজ শেষ করতে পেরেছি। সকলের সহযোগিতা না থাকলে আমরা হয়তো এ কাজ শেষ করতে পারতাম না।’

প্রসঙ্গত, ১৯৮৬ সালে দেশের প্রথম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে সিলেটের ৩২০ একরের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। তবে ১৯৯১ সাল থেকে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয় এ বিশ্ববিদ্যালয়ে। প্রতিষ্ঠার ৩০ বছর অতিক্রম করলেও এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিল না সীমানা প্রাচীর।

তবে ২০১৭ সালে আগস্ট মাসে বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ উপাচার্য হিসেবে যোগদানের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে নানা ধরনের প্রশ্ন উঠে। ছিনতাই, চুরি, শিক্ষার্থী ছুরিকাঘাতের শিকার, এলাকাবাসীর অনিষ্ঠতাসহ নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত ছিল এ বিশ্ববিদ্যালয়।

এমনকি ২০১৮ সালের মার্চ মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে এক অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে অতর্কিত হামলার শিকার হন বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক, লেখক ও কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল। সবমিলিয়ে সকলের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ২০১৮ সালের আগস্ট মাসের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প-১ এর অধীনে ৩২০ একর তথা প্রায় ৬ কিলোমিটারের সীমানা প্রাচীরের নির্মাণ কাজ শুরু হয়।

নির্মাণ কাজ সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তর থেকে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প-১ এর অধীনে ৫ কোটির অধিক টাকা ব্যায়ে সীমানা প্রচীরের কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে। নির্মাণ কাজের মূল দায়িত্বে ছিল মেরিনা কন্সস্ট্রাকশন অ্যাসোসিয়েট লিমিটেড। এছাড়া সার্বিক সহযোগিতা ও তত্ত্বাবধানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তর কাজ করেছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ হাবিবুর রহমান বলেন, সীমানা প্রাচীরের দৈর্ঘ্য প্রায় ৬ কিলোমিটার। এতে নির্মাণকাজ শেষের সময়কাল দেড় বছর ধরা হলেও নানা সমস্যার সম্মুখীন হওয়ার কারণে সঠিক সময়ে শেষ হয়নি সীমানা প্রাচীরের কাজ।

এমএনএইচ/