হাবিপ্রবি প্র্রতিনিধি::

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) ১৮তম ব্যাচের বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিবাহিত সময় ৩ বছর পেরিয়ে গেলেও মাত্র ৩টি সেমিস্টারের ফাইনাল পরীক্ষা পুরোপুরি শেষ হয়েছে। এ নিয়ে এই ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মাঝে সেশনজটে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ইতোমধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স শেষ বর্ষ ও মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে ইউজিসি।

অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা নেওয়া শুরু হয়েছে কিন্তু বাকি সেশনগুলোর আটকে থাকা পরীক্ষাগুলো নেওয়ার ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এ অবস্থায় দীর্ঘ সেশনজটে পড়েছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরা।

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ১৬ ব্যাচের শেষ বর্ষের পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আজ (৭ জানুয়ারি) থেকে। কিন্তু অন্য সকল ব্যাচের আটকে থাকা সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা বা অনলাইনে শেষ হওয়া সেমিস্টারের পরীক্ষা কবে হবে তার কোন হদিস নেই। এমতাবস্থায় জট দীর্ঘতর হচ্ছে এ বিশ্বিবদ্যালয়ের অন্য সকল ব্যাচের।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ ব্যাচে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের ৩ জানুয়ারি ২০১৮ কেন্দ্রীয় ওরিয়েন্টেশন শেষে ৭ জানুয়ারি থেকেই বিভিন্ন অনুষদ ও বিভাগের ক্লাস শুরু হয়েছিল । সে হিসেবে এতদিনে এ ব্যাচের ৩টি লেভেলের ৬টি সেমিস্টার শেষ হওয়ার কথা ছিল৷ কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় চালু থাকাকালীন বিভিন্ন আন্দোলনে ক্লাস পরীক্ষা বন্ধ থাকা এবং বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে দীর্ঘ জটে আটকা পড়েছে হাবিপ্রবির ১৮ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।

১৮ ব্যাচের বিভিন্ন বিভাগ ও অনুষদের লেভেল-২ সে-২ এর কোর্স শেষ হলেও করোনা পরিস্থিতিতে আটকে যায় পরীক্ষা। সর্বশেষ বিশ্বিবদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরীক্ষা বাদ রেখে ও বিভাগে নামমাত্র অনলাইন ক্লাসকার্যক্রম চলছে বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

দীর্ঘ সেশনজটে পড়ে ১৮ ব্যাচ এর কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থী রাজ হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, ‘খুব খারাপ লাগে যখন শুনি অন্যান্য ভার্সিটির বন্ধুরা আমাদের থেকে অনেক এগিয়ে আছে। গত ৩ বছরে অফিশিয়ালি আমাদের মাত্র তিনটি সেমিস্টার শেষ হয়েছে। এবং রেজাল্ট হয়েছে মাত্র দুইটি সেমিস্টারের। এর থেকে বড় দুঃখের খবর আর কী হতে পারে! আশাকরি অতি শীঘ্রই সব কিছুর সমাধান হবে।’

সেশনজট নিরসনের বিষয়ে কৃষি অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. ভবেন্দ্রকুমার বিশ্বাসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিলে শিক্ষার্থীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান স্যারদের নিয়ে বসে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি কিভাবে পুষিয়ে উঠা যায় তা নিয়ে আলোচনা করে এর সুপারিশ প্রশাসনের কাছে একাডেমিক কাউন্সিলে উত্থাপন করবো।’

বিজ্ঞান বিভাগের ডিন প্রফেসর ড. নাজিম উদ্দীন বলেন, ‘সেশনজট কীভাবে কমানো যায় এ নিয়ে আমাদের কর্মপরিকল্পনা আছে। ইতোমধ্যেই ১৬ ব্যাচের পরীক্ষা শুরু হয়ে গেছে। এই ব্যাচের পরীক্ষা শেষ হলে বাকি যেসব ব্যাচদের শুধুমাত্র সেমিস্টার ফাইনাল আটকে ছিল তাদের পরীক্ষার নেওয়ার ব্যাপারে প্রশাসনের কাছে অনুমতি চাইবো।’