থার্ড আই ডেস্ক
দেশে চলমান করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলায় বন্ধ রয়েছে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এমন অবস্থায় অনলাইনে প্রকাশ করা হয় এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল। প্রকাশিত ওইসব পরীক্ষার খাতা পুনঃমূল্যায়নের ফল আগামী ২৯-৩০ জুনের মধ্যে প্রকাশ করা হবে।

ইতিমধ্যে আবেদকারীদের উত্তরপত্রের নম্বর পুনরায় গণনার কাজ শেষ পর্যায়ে। খাতা পরিবর্তিত নম্বর, গ্রেডসহ ফল আবেদনকারীর মোবাইল নম্বরে পাঠানো হবে বলে আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ড সূত্রে জানা গেছে।

সূত্রে জানা গেছে, এবছর এসএসসি-সমমান পরীক্ষার ফলে রেকর্ড সংখ্যাক পুনঃনিরীক্ষণ আবেদন আসে। ফলে সন্তুষ্ট নয় সারাদেশে দুই লাখ ৩৪ হাজার ৪৭১ শিক্ষার্থী। এ কারণে বিভিন্ন বিষয়ের উত্তরপত্র পুনঃমূল্যায়নের জন্য বোর্ড চ্যালেঞ্জ করে মোট চার লাখ ৮১ হাজার ২২২টি বিষয়ের ফলে আপত্তি তুলে আবেদন করে। গত বছর আবেদনকারীর সংখ্যা ছিল এক লাখ ৬৫ হাজার ৬৫৮ জন।

গত ৩১ মে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়। এবার গড় পাশের হার ৮২ দশমিক ৮৭ শতাংশ, যা গতবছর ছিল ৮২ দশমিক ২০ শতাংশ। এ বছর মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে এক লাখ ৩৫ হাজার ৮৯৮ জন, যা গত বছর পেয়েছিল এক লাখ পাঁচ হাজার ৫৯৪ জন। পরীক্ষার ফলে আপত্তি থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য গত ১ জুন শুরু হয় পুনঃনিরীক্ষণ আবেদন কার্যক্রম যা ৭ জুন শেষ হয়।

বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড থেকে জানা গেছে, এবার ১১ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দুই লাখ ৩৮ হাজার ৪৭১ পরীক্ষার্থী তার কাঙ্ক্ষিত ফল না পেয়ে মোট ৪ লাখ ৮১ হাজার ২২২টি বিষয়ে ফল পরিবর্তনের প্রত্যাশায় আপত্তি জানিয়ে আবেদন করে।

এর মধ্যে ঢাকা বোর্ডে এক লাখ ৪৬ হাজার ২৬০, বরিশালে ২৩ হাজার ৮৫০, চট্টগ্রামে ৫২ হাজার ২৪৬, দিনাজপুরে ৪০ হাজার ৭৫, রাজশাহীতে ৪৪ হাজার ৬১, সিলেটে ২৩ হাজার ৭৯০, কুমিল্লা বোর্ডে ৩৯ হাজার ৩০৩, ময়মনসিংহে ৩১ হাজার ৩৩১,

মাদরাসা বোর্ডে ২৮ হাজার ৪৮৪ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ১৭ হাজার ৫৩৮টি বিষয়ে খাতা পুনঃমূল্যায়নের আবেদন করেছে। যার মধ্যে ঢাকা বোর্ডে আবেদনের সংখ্যা সব চাইতে বেশি।

শিক্ষা বোর্ড কর্মকর্তারা জানান, একজন শিক্ষার্থী একাধিক বিষয়ের উত্তরপত্র চ্যালেঞ্জ করে আবেদন করেছেন। তার মধ্যে ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান, রসায়ন, পদার্থ, জীববিজ্ঞান, বাংলায় আবেদন বেশি রয়েছে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক জানান, ২০ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আড়াই শতাংশের মতো আবেদন করেছে। অনেকে ভাবে একটা আবেদন করে দেখি কিছু বাড়ে কি না? অনেকে আবার ফল পরিবর্তনের আত্মবিশ্বাস থেকে আবেদন করে। আগামী ৩০ জুনের মধ্যে ফল প্রকাশ করা হবে বলে জানান তিনি।