থার্ডআই ডেস্ক:

অবশেষে নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা ঘোষণা করেছে তালেবান। জেষ্ঠ্য কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে আফগানিস্তানে এ নতুন সরকার ঘোষণা করল তালেবান।

মঙ্গলবার কাবুলে এক সংবাদ সম্মেলনে অন্যতম মুখপাত্র জবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, তালেবানের নেতৃত্ব পরিষদের কম পরিচিত মোল্লা মোহাম্মদ হাসান আখুন্দকে ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। সরকারে ডেপুটি দায়িত্বে থাকবেন তালেবান সহ-প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা আবদুল গনি বরদার।

হাক্কানি নেটওয়ার্কের নেতা সিরাজউদ্দিন হাক্কানিকে রাখা হয়েছে ভারপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে।
সরকারে অন্যদের মধ্যে রয়েছে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে মোল্লা ইয়াকুব এবং দ্বিতীয় ডেপুটি হিসেবে মোল্লা আবদুল সালাম হানাফি।

তালেবান নেতা আমির খান মুত্তাকিকে করা হয়েছে পররাষ্ট্রমন্ত্রী। আর তালেবানের রাজনৈতিক প্রধান শের মোহাম্মদ আব্বাস স্তানিকজাই হচ্ছেন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী। হেদায়েতউল্লাহ বদরি ভারপ্রাপ্ত অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন।

মোল্লা মহম্মদ হাসান আখুন্দ (প্রধানমন্ত্রী)
মোল্লা মহম্মদ হাসান আখুন্দ, তালেবানের আগের সরকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। বর্তমানে তালিবানদের সর্বশক্তিশালী সিদ্ধান্তগ্রহণকারী সংস্থা, রেহবাড়ি শুরা বা নেতৃত্ব পরিষদের প্রধান তিনি। জানা গেছে, গত ২০ বছর ধরে সুনামের সঙ্গে রেহবাড়ি শুরার প্রধানের দায়িত্ব সামলাচ্ছে মোল্লা মোহাম্মদ হাসান। তার জন্মস্থান কান্দাহার।

একটি সূত্র বলছে,  যে মূল ৩০ জনকে নিয়ে তালেবানদের পথ চলা শুরু হয়েছিল, তাদেরই একজন হাসান আখুন্দ। সেই সঙ্গে তিনি তালিবানি সশস্ত্র আন্দোলনেরও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। তবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি রয়েছেন লোকচক্ষুর অন্তরালে।

মোল্লা আবদুল গনি বারাদার (উপপ্রধানমন্ত্রী)
মোল্লা বারাদারের জন্ম আফগানিস্তানের উরুযগান প্রদেশের উইটমাক নামে একটি গ্রামে। তবে তিনি বড় হন আফগানিস্তানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর কান্দাহারে। সেখানেই একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেছেন। জাতিগত পশতুন বারাদার ১৯৭০ ও ৮০-এর দশকে আফগানিস্তান থেকে সোভিয়েত সৈন্যদের তাড়াতে দশ বছর যুদ্ধ করেন। এরপর আফগান গৃহযুদ্ধ চলার সময় মোল্লা মোহাম্মদ ওমরের নেতৃত্বে ১৯৯৪ সালে যে কয়েকজন পশতুন মুজাহিদীন তালেবান প্রতিষ্ঠা করেন, মোল্লা বারাদার ছিলেন তাদের অন্যতম। মোল্লা ওমরের ডান হাত ছিলেন তিনি।

জানা যায়, তাদের মধ্যে আত্মীয়তার সম্পর্কও ছিল। মোল্লা ওমরের বোনকে বিয়ে করেন বারাদার। তিনি তালেবানের পক্ষে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে দোহা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

সিরাজউদ্দিন হাক্কানি (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী)
তিনি পাকিস্তান-আফগানিস্তানের সীমান্ত জুড়ে অবস্থিত তালেবানদের সব আর্থিক ও সামরিক সম্পদের দেখাশোনা করা ‘হাক্কানি’ নেটওয়ার্ক এর দায়িত্বে ছিলেন। তিনি তালেবানের ডেপুটি প্রধানও হয়েছেন। তার নেতৃত্বে তালেবান আমেরিকা ও তার জোটবাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধ করে। উত্তর ওয়াজিরিস্তানে তার শক্ত ঘাঁটি আছে। সেখান থেকে তিনি আল-কায়েদাকে সাহায্য ও আশ্রয় দেন। তিনি তালেবানের সর্বোচ্চ কমান্ডার মাওলানা হাইবাতুল্লাহ আখুন্দাজাদার অধীনে উপনেতা হিসেবে কাজ করেছেন।

সিরাজউদ্দিন হাক্কানির মাথার দাম ৫০ লাখ ডলার ধরা আছে যুক্তরাষ্ট্রে। সিএনএন লিখেছে, যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকায় থাকা হাক্কানি নেটওয়ার্কের সঙ্গে আল কায়দার যোগসাজশ রয়েছে।

সংগঠনটির বর্তমান প্রধান সিরাজউদ্দিন হাক্কানির নাম এফবিআইর ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় মঙ্গলবারও দেখা গেছে। তাতে বলা হয়েছে, ২০০৮ সালে কাবুলে হোটেলে বোমা হামলা চালিয়ে ছয়জন আমেরিকানকে হত্যার অভিযোগে তাকে খোঁজা হচ্ছে।

মোল্লা মোহাম্মদ ইয়াকুব (প্রতিরক্ষামন্ত্রী)
মোল্লা মোহাম্মদ ইয়াকুব (৩০) তালেবানদের প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা ওমরের ছেলে। তিনি দলটির সামরিক কার্যক্রমের দায়িত্বে রয়েছেন। আখতার মানসুরের মৃত্যুর পর দলটির পরবর্তী নেতা হিসেবে তার নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। নিজের স্বল্প সামরিক অভিজ্ঞতা ও কম বয়সের কথা উল্লেখ করে ২০১৬ সালে তিনি নিজের পরিবর্তে হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার নাম প্রস্তাব করেন।

মোল্লা আবদুল সালাম হানাফি (উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী)
মোল্লা আবদুল সালাম হানাফি তালেবানের একজন আফগান সিনিয়র নেতা। উইকিপিডিয়ার তথ্যমতে, তিনি তালিবানের আগের সরকারে শিক্ষা উপমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন। জাওজান প্রদেশ উজবেকদের অন্তর্গত বলে জানা গেছে। কিছুদিন কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতাও করছেন। তালেবানদের মধ্যে ‘আলিম ই দ্বীন’ (আলেম) নামে পরিচিত তিনি।

আমির খান মুত্তাকি (পররাষ্ট্রমন্ত্রী)
তিনি তালেবানের জ্যেষ্ঠ নেতা। ১৯৭০ সালে নাদ আলী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। এর আগে তিনি তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এবং জাতিসংঘে তালেবান সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

শের মোহাম্মদ আব্বাস স্তানিকজাই (উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী)

তিনি আফগান জাতীয় সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। তিনি সেনাবাহিনী থেকে সরে এসে আফগানিস্তানে সোভিয়েতদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য ইসলামী আন্দোলনে যোগ দেন। তিনি প্রথম তালেবান সরকারের উপ-ক্যাবিনেট মন্ত্রী ছিলেন।