থার্ডআই ডেস্ক:

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার দনা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ এর গুলিতে নিহত দুই বাংলাদেশি যুবকের লাশ দুদিন ধরে ঘটনাস্থলে পড়ে রয়েছে। লাশ উদ্ধারের জন্য বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফ এর সঙ্গে যোগাযোগ করে পতাকা বৈঠক হলেও লাশ উদ্ধার সম্ভব হয়নি।

বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত লাশ যেভাবে ছিল সেভাবেই পড়ে আছে। এদিকে লাশ উদ্ধার না হওয়ায় নিহত দুই যুবকের পরিবারে আর্তনাদ থামছে না।

তারা লাশের অপেক্ষায় আহাজারি করছেন। নিহত দুই যুবক হলেন, কানাইঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী এরালিগুল গ্রামের মৃত আবদুল লতিফের ছেলে আসকর আলী (২৫) ও একই গ্রামের আবদুল হান্নানের ছেলে আরিফ হোসেন (২২)।

বিজিবি ও পুলিশসূত্র জানায়, লাশ দুটি সীমান্তের বাংলাদেশ না ভারত অংশে পড়ে রয়েছে তা নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিজিবি ও বিএসএফ এর মধ্যে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকেও এ নিয়ে সুরাহা হয়নি। এ ছাড়া ওই বৈঠকে বিএসএফ হত্যার দায় অস্বীকার করে। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, লাশ দুটি যে স্থানে রয়েছে, তা কোন দেশে পড়েছে সেটা চিহ্নিত করা হবে। এরপর লাশ উদ্ধার হবে।

বিজিবির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা জানান, লাশ দুটি সীমান্তের ভারতীয় অংশেই পড়ে আছে এবং বিএসএফ কিংবা ভারতীয় অস্ত্রধারীদের গুলিতে তাদের মৃত্যু হয়েছে।
তিনি আরো জানান, লাশ ভারতের অভ্যন্তরে থাকলে সেদেশেই তাদের ময়নাতদন্ত হবে এবং পরে বিএসএফ তাদের লাশ হস্তান্তর করবে।

এসব প্রক্রিয়া সম্পন্নে সময় লাগতে পারে।
কানাইঘাট থানার ওসি মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, লাশগুলো সীমান্তে পড়ে আছে। বিজিবি ও বিএসএফ এর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে জটিলতার নিরসনের পর লাশ উদ্ধার হবে।
নিহত আসকর ও আরিফের স্বজনরা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার বিকালে তারা বাড়ি থেকে বের হয়ে স্থানীয় লালবাজারে যায়। এরপর রাতে তারা আর বাড়ি ফিরেনি।

সীমান্ত এলাকার অনেকে ধারণা, আসকর ও আরিফ মঙ্গলবার রাতে সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের উকিয়াং এলাকায় প্রবেশ করতে পারে। এসময় বিএসএফ তাদের গুলি করে হত্যা করে তাদের লাশ আর্ন্তজাতিক সীমানার ১৩৩১ নম্বর মেইন পিলারের পাশের একটি খালের পাড়ে ফেলে রেখেছে। সকালে তাদের গুলিবিদ্ধ লাশ দেখে পরিচয় শনাক্ত করেন স্থানীয়রা।