নিজস্ব প্রতিবেদক
স্বপ্নের মতো এক স্পেলে বাংলাদেশকে রীতিমতো কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন ফজলহক ফারুকি। মাত্র দ্বিতীয় ওয়ানডে খেলতে নেমেছেন। স্বাগতিক দল তাকে সিলেবাসে রেখেছিল কিনা কে জানে! অথচ রশিদ খান, মুজির উর রহমানদের আড়ালে রেখে এই ২১ বছর বয়সী ত্রাস ছড়ালেন। বাঁহাতি পেসারের তোপে ২১৬ রান তাড়া করতে নেমেও কোমায় চলে যায় বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন।
৪৫ রানে হারিয়ে ফেলে ৬ উইকেট। সেখান থেকে আফিফ হোসেন ধ্রুব ও মেহেদী হাসান মিরাজ প্রাণ সঞ্চার করেন। খাদের কিনার থেকে দলকে শুধু টেনেই তোলেননি তারা, সপ্তম উইকেটে রেকর্ড জুটি গড়ে এনে দিয়েছেন দারুণ জয়। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে বুধবার আফগানিস্তানকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। সুবাদে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেল স্বাগতিকেরা।
লোয়ার অর্ডারে অবিচ্ছিন্ন ১৭৪ রানের জুটিতে আফগানদের কাছ থেকে জয় ছিনিয়ে নেন আফিফ ও মিরাজ। ৪৯তম ওভারের গুলবাদিন নাইবকে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দাপুটে ভঙ্গিতে ম্যাচ শেষ করেন আফিফ। ১১৫ বলে ১১ চার ও ১ ছক্কায় অপরাজিত ৯৩ রান করেন আফিফ। অন্য প্রান্তে মিরাজ ১২০ বলে ৯ চারে অপরাজিত ৮১ রান করেন। অথচ বাংলাদেশ এই ম্যাচ জিতবে, খুব আশাবাদী মানুষও একপর্যায়ে তা ভেবেছেন কিনা সন্দেহ!
বাংলাদেশ ইনিংসের তৃতীয় ওভারে দুই ওপেনার লিটন দাস (১) ও তামিম ইকবালকে (৮) তুলে নেন ফজলহক। পঞ্চম ওভারে ফিরে আবারো জোড়া উইকেট শিকার করেন তিনি। এবার তুলে নেন মুশফিকুর রহিম (৩) ও ইয়াসির আলী রাব্বীকে (০)। ইয়াসির অভিষেকে ডাক মারার তেতো স্বাদ পান। বাংলাদেশ মাত্র ১৮ রানে ৪ উইকেটে পরিণত হয়।
অষ্টম ওভারে বাংলাদেশ আবারো ধাক্কা খায়। এবার সাকিব আল হাসানকে (১০) বোল্ড করেন মুজিব উর রহমান। ১২তম ওভারে মাহমুদউল্লাহকে (৮) গুলবাদিন নাইবের হাতে ক্যাচে পরিণত করেন রশিদ খান। ফলে দলীয় ৫০ পূরণের আগেই ৬ উইকেট হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পাড়ে টাইগাররা।
সেখান থেকে দলকে টেনে তুলার দায়িত্ব কাঁধে নেন দুই তরুণ আফিফ ও মিরাজ। ৫৮ বলে ৫০ পূরণ করে এই জুটি। বাংলাদেশ ২১.৬ ওভারে দলীয় ১০০ পূরণ করে।
ড্রিংকস বিরতির সময় ৩০ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ১৩০/৬। ড্রিংকসের পর ফিফটি তুলে নেন আফিফ। মিরাজও তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রান করতে শুরু করেন। মিরাজ ফিফটি তুলে নেওয়ার পর তার রান এগিয়েছে আফিফের সঙ্গে হাত ধরাধরি করে। শেষ পর্যন্ত দুজনই ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলেছেন। সপ্তম উইকেটে আফিফ-মিরাজের জুটিটি শুধু বাংলাদেশের সেরা জুটিই নয়, ওয়ানডেতে সবমিলেই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুটি এটি। মাত্র ৩ রান বেশি নিয়ে এক নম্বরে ইংল্যান্ডের জস বাটলার ও আদিল রশিদ।
আর সপ্তম উইকেটে বাংলাদেশের আগের সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ড ছিল ইমরুল কায়েস ও সাইফউদ্দিনের। ২০১৮ সালে মিরপুরে ১২৭ রান করেছিলেন তারা। এর আগে টাইগার বোলারদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ার মতো ব্যাটিং করতে পারেনি আফগানরা। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়েছে দলটি। নাজিবুল্লাহ জাদরানের ৮৪ বলে ৬৭ ও রহমত শাহর ৬৯ বলে ৩৪ রানের পরও তাই ৪৯.১ ওভারে ২১৫ রানে থামে দলটি।
টাইগারদের পক্ষে মোস্তাফিজুর রহমান সবচেয়ে সফল। ৯.১ ওভারে ৩৫ রান খরচায় ৩ উইকেট নেন তিনি। ২টি করে উইকেট নিয়েছেন তাসকিন, সাকিব ও শরিফুল। অন্য উইকেটটি মাহমুদউল্লাহর।
মিরাজ কোনো উইকেট পাননি। তবে ১০ ওভারে মাত্র ২৮ রান ব্যয় করেন। পরে দারুণ ব্যাটিংয়ে হয়েছেন ম্যাচসেরা। একই ভেন্যুতে সিরিজের পরের দুই ম্যাচ ২৫ ও ২৮ ফেব্রুয়ারি। এরপর ঢাকায় দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে দুই দল।




