নিজস্ব প্রতিবেদক
তামিম ইকবালের ৩৩তম জন্মদিনের বড় উপহার হতে পারত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে জয়। এই জয়ে সিরিজটাও নিজেদের করে নিতে পারত বাংলাদেশ।
কিন্তু জোহানেসবার্গে ইতিহাস গড়া হলো না টাইগারদের। সেঞ্চুরিয়নের পারফরম্যান্সের ছিটেফোঁটাও দেখা গেল না দ্বিতীয় ওয়ানডেতে।
টাইগারদের দেওয়া ১৯৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ৭ উইকেটের বড় জয় পেল দ. আফ্রিকা। ৩৭.২ ওভারে ১৯৫ রান করে স্বাগতিকেরা। সঙ্গে সিরিজেও সমতায় ফিরল প্রোটিয়ারা।
গোলাপি জার্সিতে দ. আফ্রিকানরা যে ভয়ংকর তা কে না জানে! ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়ামেও তার প্রমাণ দিলেন তারা। বোলিং-ব্যাটিংয়ে কোনো জায়গায় প্রোটিয়াদের সঙ্গে লড়াই করতে পারেনি বাংলাদেশ। আর সিরিজ বাঁচাতে একাদশে তিন পরিবর্তনের সুবিধাও পেল স্বাগতিকেরা।
বাংলাদেশের হয়ে কেবল একাই লড়লেন আফিফ হোসেন। টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ৩৪ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে যখন টাইগাররা ধুঁকছে তখনই দলের হাল ধরেন ২২ বছর বয়সী ব্যাটার। মাহমুদউল্লাহকে (২৫) নিয়ে ষষ্ঠ উইকেটে ৬০ রানের জুটিতে সেই বিপর্যয় কিছুটা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন আফিফ।
এরপর মেহেদি হাসান মিরাজের (৩৮) সঙ্গে আফিফের ১১২ বলে ৮৬ রানের জুটি। দ. আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশের সপ্তম উইকেটে যা সর্বোচ্চও। আগের রেকর্ডটি ছিল ২০০৭ বিশ্বকাপে, আশরাফুল-মাশরাফির। দুজনে ৫.১ ওভারে গড়ছিলেন ৫৪ রানের জুটি।
কিন্তু কাউন্টার-অ্যাটাকে ওয়ানডে ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় ফিফটি পাওয়ার পর দলীয় ১৮০ রানে কাগিসো রাবাদাকে তুলে মারতে গিয়ে মিডউইকেটে ক্যাচ তুলে দেন আফিফ। থামে তার ১০৭ বলে ৯ চারে ৭২ রানের ইনিংস। স্কোরবোর্ডে আর এক রান জমা পড়তেই রাবাদার পঞ্চম শিকার মিরাজ। এ নিয়ে ওয়ানডেতে দ্বিতীয়বারের মতো ফাইফার পেলেন প্রোটিয়া পেসার।
বাংলাদেশের কৃতিত্বের ব্যাপার হলো শুরুর ধাক্কা সামলে এই ম্যাচে পুরো ৫০ ওভার ব্যাট করা। ৯ উইকেটে ১৯৪ রানের লড়াকু পুঁজি পায় টাইগাররা।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে তেমন কোনো বিপদে পড়তে হয়নি প্রোটিয়াদের। শুরুতেই ঝড় তোলেন একাদশে ফেরা কুইন্টন ডি কক। সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ছিলেন না এই উইকেটরক্ষক। ওপেনিং জুটিতে ৮৬ রানের সংগ্রহ পায় দ. আফ্রিকা।
ওপেনার জানেমান মালানকে (২৬) ফিরিয়ে বাংলাদেশকে ব্রেক-থ্রু এনে দেন মিরাজ। এরপর সাকিব আল হাসানের বলে ডি কককে দুর্দান্তভাবে তালুবন্দী করেন আফিফ। সাজঘরে ফেরার আগে ৪১ বলে ৯ চার ও ২ ছয়ে ৬২ রানের ইনিংস খেলেন প্রোটিয়া ওপেনার।
তবে টাইগারদের ম্যাচে ফেরার চেষ্টা ব্যর্থ করে দেন কাইল ভেরেইনে (৫৮*) ও অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা (৩৭)। ৮২ রানের জুটি গড়েন দুজনে। জয়ের সন্নিকটে এসে বাভুমা ফেরেন আফিফের বলে। তবে চতুর্থ ওয়ানডে ফিফটি পাওয়া ভেরেইনে সতীর্থ রসি ফন ডার ডুসেনকে (৮*) নিয়ে দলকে নিয়ে যান জয়ের বন্দরে।
৩৯ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন রাবাদা। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ সমতায় আছে ১-১ ব্যবধানে। সিরিজ নির্ধারনী ম্যাচ হবে ২৩ মার্চ, সেঞ্চুরিয়নে।




