কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় চলছে বোরো ধান কাটা মাড়াই। কৃষকেরা তাদের সোনালি ফসল ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
কিন্তু ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন কুড়িগ্রামের বোরো চাষিরা।
গত ছয় ঘণ্টার মধ্যে জেলায় ১২৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এতে করে জমিতে থাকা পাকা ধান, মাড়াই করা ধান ও খড় পানিতে তলিয়ে গেছে।
রাজারহাট আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার কুড়িগ্রামে ৫ ঘণ্টায় ১২৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন স্থানে দমকা হাওয়াসহ ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, শনিবার ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে শত শত বিঘা জমির পাকা বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। কৃষকেরা পানিতে তলিয়ে যাওয়া পাকা ধান কাটতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। অনেকের আবার মাড়াই করা ধান ও খড়ও পানিতে তলিয়ে গেছে।
এদিকে আবার ভারী বর্ষণের ফলে কুড়িগ্রাম-যাত্রাপুর সড়কের শুলকুর বাজার এলাকার নির্মাণাধীন সেতুর বিকল্প রাস্তাটি পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এই রাস্তায় যাতায়াতকারী শত শত মানুষ।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলায় ১ লাখ ১৬ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে।
সদরের পাঁচগাছি ইউনিয়নের কাঁচিচর এলাকার শহিদুল ইসলাম নামের এক কৃষক বলেন, আমি দুই বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেছি। ফলনও খুবই ভালো হয়েছে এবং ধান পেকে গেছে। কিন্তু আজ বৃষ্টিতে এক বিঘা জমির পাকা ধান পুরোটাই পানিতে তলিয়ে গেছে। কামলা নিয়ে ডুবে যাওয়া ধান কাটছি। না কাটলে তো পচে যাবে।
কুড়িগ্রামের রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সবুর হোসেন জানান, আজ কুড়িগ্রামে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ১২৬ মিলিমিটার। আগামী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন স্থানে দমকা হাওয়াসহ ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।




