নিজস্ব প্রতিবেদক

শিক্ষক হত্যা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে শুক্রবার দেশব্যাপি সমাবেশ করেছে বিভিন্ন সংগঠন। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, ছাত্র ইউনিয়ন, নিপীড়নের বিরুদ্ধে শাহবাগসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন প্রতিবাদী কর্মসূচি পালন করে।
ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্ক, মিরপুর ২ নম্বর সেক্টরের ন্যাশনাল বাংলা স্কুল প্রাঙ্গণ ও দনিয়া ফুটওভার ব্রিজ এলাকা এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া, বরিশাল, কুড়িগ্রামসহ বিভিন্ন জেলা শহরেও প্রতিবাদী কর্মসূচি পালন করা হয়। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘একের পর এক শিক্ষকদের ওপর হামলা হচ্ছে।

শুক্রবারও জুম্মার নামাজের পর জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক রতন সিদ্দিকীর বাড়িতে উগ্রবাদী ধর্মীয় গোষ্ঠী হামলা করেছে। যে শিক্ষকদের ওপর হামলা হচ্ছে, তারা বেশিরভাগই হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক। এটা পরিষ্কার যে একটা ধর্মীয় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে এবং বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র বানানোর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এসব ঘটছে। সরকারকে কঠোরভাবে এ উগ্রবাদীদের প্রতিহত করতে হবে। নইলে স্বাধীন বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হুমকির মুখে পড়বে। ’
দেশের বিভিন্ন জায়গায় সাংস্কৃতিক জোটের ব্যানারে প্রতিবাদী কর্মসূচি অব্যহত থাকবে বলেও জানান গোলাম কুদ্দুছ।

কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, জাতির মেরুদণ্ড গড়ার কারিগর শিক্ষকদের ওপর নানান স্থানে যে ধরনের হামলা, মামলা নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা ঘটানো হচ্ছে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়, ন্যাক্কারজনক। সম্মানিত শিক্ষকদের ওপর এ ধরনের ঘটনা পরিকল্পিতভাবে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা তথা দেশের মেরুদণ্ডকে ধ্বংস করার অপচেষ্টা। একটি কুচক্রী মহলের ইন্ধন ও যোগসাজশে বারবার এ ধরনের ঘটনাগুলো ঘটানো হচ্ছে।

এদিকে শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে শুক্রবার বিকেলে ‘বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতা রুখে দাঁড়াও’ স্লোগান নিয়ে এবং শিক্ষক হত্যা-নিপীড়নের বিচার দাবিতে সমাবেশ করেছে ‘নিপীড়নের বিরুদ্ধে শাহবাগ’।
এ আয়োজনে প্রতিবাদী নাটক, গান, আবৃত্তি পরিবেশন করেন শিল্পীরা।
শাহবাগে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন প্রতিবাদ সমাবেশ করে সারাদেশে শিক্ষক হত্যা এবং নির্যাতনের বিচার দাবি জানিয়েছে।

এ সময় বক্তারা বলেন, ক্ষমতায় টিকে থাকার হাতিয়ার হিসেবে সাম্প্রদায়িকগোষ্ঠীগুলোকে ব্যবহার করছে আওয়ামী সরকার।

ছাত্র ইউনিয়নের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি রেজোয়ান হক মুক্তর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শাওন বিশ্বাসের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সহ-সভাপতি ওয়ালিদ হাসান লাবু, শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক শরিফুল ইসলাম সৌরভ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক দিয়াত মাহমুদ শাকিলসহ প্রমুখ।
সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ফেরদৌস আহম্মেদ উজ্জ্বল।
বক্তারা বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক উস্কানী সৃষ্টি করে একের পর এক শিক্ষকদের ওপর নৃসংশ হামলা-মারধরসহ লাঞ্ছিত করা এবং হত্যাকাণ্ডে যারা জড়িত তাদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। যেসব সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী সারাদেশে অব্যাহত শিক্ষক নিপীড়নের ঘটনা ঘটাচ্ছে, ধারাবাহিকবাবে তাদের উস্কানি দিয়ে চলেছে শাসকগোষ্ঠী আওয়ামী লীগ। আমরা বারবার দেখেছি, সারাদেশে গত ১০ বছরে যতগুলো সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটেছে, প্রতিটি ঘটনার সঙ্গে জড়িত আওয়ামী লীগ এবং তার অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এ অবৈধ আওয়ামী সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীগুলোকে। সারাদেশে সংখ্যালঘু শিক্ষক নির্যাতন এবং সকল সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবান জানাই দেশবাসিকে।
সমাবেশে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহরিয়ার অপূর্ব, কোষাধ্যক্ষ রাকিব হাসান সুজন, দপ্তর সম্পাদক আকরাম হোসেন সহ বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।