নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সবার স্বার্থে আন্দোলনে নেমেছেন আল-আমিন আটিয়া নামের এক শিক্ষার্থী। তার দাবি জ্বালানি তেলের লিটারপ্রতি দাম ৮০ টাকার নিচে নামাতে হবে। এক সপ্তাহ ধরে এ দাবিতে তিনি একাই রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করছেন।
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরণ অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন এই শিক্ষার্থী।

শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১টায় আল-আমিনকে গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আল-আমিন বলেন, ‘আমার যদি মৃত্যুও হয় তাতেও আমি আন্দোলন থেকে পিছু হটব না। ’
গত ৫ আগস্ট রাত থেকে দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম ৪২-৫২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করে সরকার। লিটার প্রতি পেট্রলের দাম ৮৬ টাকা থেকে ১৩০ টাকা করা হয়। অকটেনের দাম বাড়ে ৮৯ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা।
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করায় এর প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায়। বেড়ে যায় পরিবহন ব্যয়। নিত্যপণ্যের দাম বাড়ে কয়েকগুণ। দেশের জনগণের দুর্ভোগ কমাতে ব্যক্তিগত আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান আল-আমিন।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ও গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে কথা হয় আল-আমিনের সঙ্গে।

আল-আমিন আটিয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত রাজধানীর সরকারি বাংলা কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের  স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী। গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলায়। রাজধানীতে লেখাপড়ার পাশাপাশি তিনি অনলাইনে পণ্য ডেলিভারি দিয়ে টাকা উপার্জন করেন।
জ্বালানি তেলের দাম ৮০ টাকার নিচে নামাতে সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে গত ১৬ আগস্ট সকাল ১১টা থেকে তিনি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনশন শুরু করেন। অনশনের ১৭০ ঘণ্টার মাথায় স্বাস্থ্যের অবনতি হলে তাকে দুপুর পৌনে ১টার দিকে রাজধানীর গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সেখানে সন্ধ্যা ৬টায় আটিয়া বলেন, গত ১৬ আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত আমার আন্দোলন চলমান রয়েছে। এ অহিংস আন্দোলন সম্পূর্ণ আমার ব্যক্তিগত। রাষ্ট্রের কল্যাণের কথা বিবেচনা করে সরকারকে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে তেলের দাম সমন্বয় করে লিটারপ্রতি ৮০ টাকার নিচে নামিয়ে আনতে হবে। প্রয়োজনে জনগণের করের টাকা থেকে ভর্তুকি দিতে হবে। জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করার জন্য জ্বালানি খাত থেকে লাভের চিন্তা বাদ দিতে হবে।