নিজস্ব প্রতিবেদক

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) একটি প্রতিনিধি দলের বুধবার ঢাকায় আসার কথা রয়েছে।
প্রতিনিধি দলটি ২৬ অক্টোবর থেকে ৯ নভেম্বর পর্যন্ত আর্থিক খাত ও নীতির সংস্কারসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেবে।
দলটির নেতৃত্ব দেবেন বাংলাদেশে আইএমএফ মিশন প্রধান রাহুল আনন্দ।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনার সংকট কাটিয়ে উঠতে আইএমএফের ঋণ দেশের ভাবমূর্তি উজ্জল করবে।

তবে আইএমএফ থেকে ঋণ নিতে হলে শর্ত মানতে হবে।
এক দশক আগে বাংলাদেশ সাত কিস্তিতে আইএমএফ থেকে প্রায় ১০০ কোটি ডলারের একটি বর্ধিত ঋণ সুবিধা (ইসিএফ) পেয়েছিল। ওই সময় ঋণের বিপরীতে একটি শর্ত ছিল ভ্যাট আইন প্রণয়ন করা।
এ বিষয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালব ড. আহসান এইচ মনসুর দেশ রূপান্তরকে বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর দুটি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে-প্রথমত, অর্থ প্রদানের ভারসাম্যে বড় ঘাটতি এবং দ্বিতীয়ত, বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারার কারণে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। বাংলাদেশও তার বাইরে নয়।

তিনি বলেন, আমি মনে করি এখানেই আইএমএফ একটি ভূমিকা পালন করতে পারে। আইএমএফের কর্মসূচি অর্থের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, বরং আর্থিক নীতি সংস্কারের সঙ্গে সম্পর্কিত। সে সংস্কারই হবে আসল জিনিস, যা আর্থিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক করবে।
গত ২০ অক্টোবর আইএমএফের বিবৃতিতে বলা হয়, সংস্থার প্রতিনিধি দলের সফরের উদ্দেশ্য হলো কর্মকর্তা পর্যায়ের আলোচনাকে এগিয়ে নেওয়া।

সম্প্রসারিত তহবিল সুবিধা কর্মসূচির ঋণ এবং সহনশীল ও টেকসই ট্রাস্ট ফান্ড (আরএসএফ) কর্মসূচিতে সম্ভাব্য প্রবেশাধিকার নিয়ে আলোচনা। এ আলোচনা আগামী মাসগুলোতে অব্যাহত থাকতে পারে।

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে বাংলাদেশ নিজেদের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে আইএমএফের কাছে বাজেট সহায়তা চেয়েছে। এ ঋণের পরিমাণ ৪৫০ কোটি ডলার। আগামী তিন বছরে বাংলাদেশ এ অর্থ চায়। এর সঙ্গে আইএমএফের নবগঠিত সহনশীল ও টেকসই ট্রাস্ট ফান্ড থেকে পাওয়া যাবে ১০০ কোটি ডলার।
আরএসএফের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে, বাংলাদেশসহ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোতে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সহায়তা দেওয়া। সফরকালে আইএমএফ প্রতিনিধিরা অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে এসব বিষয়ে সংযুক্তি অব্যাহত রাখতে প্রয়াসী হবে।

কয়েক দিন আগে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রের বরাত দিয়ে এক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ১০ দিনের সফরে আইএমএফ প্রতিনিধি দল ঢাকায় বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে বৈঠক করবে।
আইএমএফ সূত্রে জানা গেছে, ঋণ আলোচনা ফলপ্রসূ হলে বাংলাদেশ চলতি বছরের শেষ নাগাদ অথবা আগামী বছরের শুরুতে প্রথম কিস্তি ছাড় করা হবে।
গত ২৪ জুলাই ঋণ চেয়ে আইএমএফকে চিঠি দেয় বাংলাদেশ। এরপর জানা যায়, ঋণ পেতে হলে বাংলাদেশকে বিভিন্ন শর্ত মানতে হবে। মূলত এসব শর্ত ঠিক করতেই আইএমএফ প্রতিনিধি দল ঢাকায় আসছে।