থার্ডআই ডেস্ক
আগামী মাসেই ইউরোপে তেল সরবরাহও বন্ধ করে দিতে পারে রাশিয়া। রুশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০২৩ সালের শুরু থেকেই রুশ অপরিশোধিত তেল ছাড়াই চলতে হবে ইউরোপকে। ইতিমধ্যেই ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে রাশিয়া।
শনিবার এক টুইট বার্তায় ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে নিযুক্ত রাশিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি মিখাইল উলিয়ানভ বলেছেন, নতুন বছর থেকে ইউরোপকে রাশিয়ার তেল ছাড়াই চলতে হতে পারে। তাদের উচিৎ সেভাবেই চিন্তাভাবনা করা।
রাশিয়া থেকে আমদানি করা অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬০ ডলারে বেঁধে দেওয়ার পশ্চিমা পদক্ষেপের পর এমন বার্তা দিলেন রাশিয়ার এই কর্মকর্তা।
উলিয়ানভ বলেন, আমরা এর আগেই ঘোষণা করেছি, যেসব দেশ রুশ জ্বালানির মূল্য বেঁধে দেবে বা এ পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন জানাবে সেসব দেশে তেল সরবরাহ করা হবে না।
এসময় পশ্চিমাদের প্রতি কিছুটা উপহাস করে তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার এ সিদ্ধান্তের পর তারা (পশ্চিমারা) ভবিষ্যতে সমালোচনা করে বলবে যে, রাশিয়া তার তেলকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে!
এর আগে গত শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) এক বিবৃতিতে জি সেভেনভুক্ত সাতটি দেশ ও অস্ট্রেলিয়া জানায়, রাশিয়ার অপরিশোধিত সমুদ্রজাত জ্বালানি তেলের মূল্য ব্যারেলপ্রতি ৬০ ডলার নির্ধারণে সম্মত হয়েছে তারা। পশ্চিমা দেশগুলোর এমন ঘোষণার পর এ প্রতিক্রিয়া জানান উলিয়ানভ।
শনিবার ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভও পশ্চিমাদের সমালোচনা করে বলেন, ‘আমরা এই মূল্যসীমা গ্রহণ করব না।’ রাশিয়া দ্রুত বিষয়টি বিশ্লেষণ করবে এবং তার প্রতিক্রিয়া জানাবে।
ইউক্রেনের মিত্র পশ্চিমা দেশগুলোর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সমুদ্রপথে আমদানি করা রাশিয়ার তেল প্রতি ব্যারেল ৬০ ডলারের বেশি দামে কেনা যাবে না। আগামীকাল সোমবার থেকে এই দাম কার্যকর হবে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। এর প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়ার ওপর একাধিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে পশ্চিমা দেশগুলো। জবাবে ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয় রাশিয়া। এর ফলে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে ইউরোপীয় দেশগুলো। গ্যাসের অভাবে ইউরোপ এবার গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর শীতকালের মুখোমুখি হবে।




