নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট

সিলেটের প্রধান তিনটি নদী সুরমা, কুশিয়ারা ও সারি নদীর পানি বিপদ সীমার উপদ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিনটি নদীর পানি বিপদ সীমার উপরে প্রবাহিত হওয়ায় সিলেট নগরী সহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ভয়াবহ বন্যার আশংকা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো), সিলেট জানিয়েছে, রবিবার বেলা ১২টা পর্যন্ত সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ৮০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এছাড়া একই সময়ে সিলেট পয়েন্টে সুরমার পানি বিপদ সীমার ৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহমান ছিলো।

এদিকে সিলেটের অপর দুটি প্রধান নদী কুশিয়ারা ও সারি নদীর পানিও বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানান পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তা। সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে কুশিয়ারার পানি বেলা ১২টায় বিপদসীমার ৩০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানায় পাউবো।

কানাইঘাটের লোভা নদীর পানি গতকালের ১৪.৮২ মিটার থেকে বেড়ে আজ দুপুরে দাঁড়িয়েছে ১৪.৮৫ মিটার। ফলে কানাইঘাট উপজেলা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে।

সিলেট নগরীর বাগবাড়ী এলাকার বাসিন্দা মঞ্জুরুল আজিজ চৌধুরী জানান, এমনতেই করোনা ভাইরাসের কারণে পরিবার নিয়ে আতংকে দিন কাটছে। তারওপর সিলেট বিভাগজোড়ে ভয়অবহ বন্যা। শহরের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি পানি জমা হয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণে স্থায়ী উদ্যোগ নেয়া দরকার।

এদিকে সুরমার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় শুধু সিলেট নয় প্লাবিত হয়েছে সুনামগঞ্জ জেলার অধিকাংশ এলাকা। সুনামগঞ্জ পৌরসভা সুরমার পানিতে তলিয়ে গেছে। সুরমার পানিতে ছাতক পৌরসভার অধিকাংশ অংশ পানির নীচে রয়েছে বলে জানিয়েছেন থার্ডআই এর ছাতক প্রতিনিধি। এছাড়া জেলার বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, দিরাই, শাল্লা সহ হাওড় বেষ্ঠিত বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার আনোয়ারপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হক জানান, আমাদের দুঃখ দেখার কেউ নেই। পনের দিনের মধ্যে দুইবার গ্রমের পর গ্রাম প্লাবিত। প্রতিবছর বন্যায় সব হারাই কিন্ত এর স্থায়ী সমাধান কেউ করে না।