নিজস্ব প্রতিবেদক

নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। তবে এখনও পানিবন্দি জীবন যাপন করছেন কুড়িগ্রামের ৯ উপজেলার ৫৬ ইউনিয়নের আড়াই লক্ষাধিক মানুষ। বাঁধে ও উঁচু স্থানে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নেওয়া হাজারো মানুষ খাদ্য সংকট আর বৃষ্টিতে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। সরকারি ত্রাণ কার্যক্রম চললেও তা দুর্গত লোকজনের চাহিদার তুলানায় অপ্রতুল। একে তো করোনা পরিস্থিতি তারওপর বন্যায় কর্মহীন হয়ে পড়া এসব মানুষ খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছেন।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এখনও আড়াই লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি। ৬৪ আশ্রয়কেন্দ্রে ৬৩০টি পরিবার বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে ৫ শতাধিক পরিবার। যদিও বাস্তব চিত্রে এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি।
স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র নদ এখনও বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ধরলা নদীর পানি সামান্য বাড়লেও ব্রহ্মপুত্রের পানি কমতে শুরু করেছে। কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বাড়তে শুরু করলেও এখও বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বন্যার পাশাপাশি নদী ভাঙনে ভিটে হারিয়ে ছিন্নমূল হয়ে পড়েছে শত শত পরিবার। সরকারি হিসেবেই ৫ শতাধিক লোক বাস্তুহারা হয়ে পড়েছে। বন্যায় সরকারি খাদ্য সহায়তা চলমান থাকলেও বাস্তুহারা এসব লোকের পুনর্বাসনে এখনই কোনও সহায়তা দেওয়া হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বাঁধে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলো বৃষ্টি বিড়ম্বনায় বয়োবৃদ্ধ ও শিশুদের নিয়ে নানা ভোগন্তিতে পড়েছেন। স্বাস্থ্য ঝুঁকি আর অনিশ্চয়তা নিয়ে দিন যাপন করছেন গর্ভবতী নারীরা।
উলিপুর উপজেলার বজরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম আমিন ও সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী সরকার, চিলমারী উপজেলার নয়ারহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু হানিফাসহ বন্যাকবলিত এলাকার কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বন্যায় তাদের ইউনিয়নের মানুষজন দীর্ঘদিন ধরে পানিবন্দি হয়ে খুব কষ্টে আছেন। দুর্গত লোকদের ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হলেও তা অপ্রতুল। ঈদ উপলক্ষে প্রতিটি পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। যা হয়তো অনেক পরিবারের ঈদের দিন পর্যন্ত খাদ্য চাহিদা মেটাতে পারবে না। বানভাসিদের জন্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে আরও সহযোগিতার দরকার।

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক রেজাউল করিম জানান, বন্যা কবলিতদের জন্য সরকারিভাবে ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে ১৯০ মেট্রিকটন জিআর চাল ছাড়াও ঈদের আগে জেলার ৪ লাখ ২৮ হাজার ৫২৫ পরিবারকে ১০ কেজি করে ভিজিএফ’র চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী আরও খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে।