থার্ডআই ডেস্ক:

উজান থেকে নেমে আসা পাহারী ঢল আর ভারী বৃষ্টিতে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় সিরাজগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ পয়েন্টে ১১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

শনিবার সকালে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের শহর রক্ষা বাঁধ পয়েন্টের গেজ মিটার রিডার আব্দুল লতিফ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় প্লাবিত হয়েছে নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চল।

এতে পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট। তলিয়ে গেছে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ, রাস্তাঘাট, বিস্তীর্ণ রোপা আমনের খেত। ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষ।

এ ছাড়া জেলার করতোয়া, ইছামতী, ফুলজোড়, গোহালা, চিকনাই, হুরাসাগর ও বড়াল নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলার ৯ উপজেলার অধিকাংশ গ্রামের নিচু এলাকা বন্যা কবলিত হয়ে অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী জীবন যাপন করছেন।

জানা গেছে, জেলার কাজিপুর, চৌহালী, শাহজাদপুর ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নদী ভাঙন শুরু হওয়ায় বিস্তীর্ণ ফসলি জমি ও বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বন্যার পানিতে টিউবওয়েল ডুবে যাওয়ায় অনেক স্থানে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

শাহজাদপুর উপজেলার খুকনি ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগ্রাম ও আরকান্দি গ্রামের পানিবন্দী অসহায় মানুষদের কাছে এখনো কোন ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছায়নি। গো-চারণভূমি পানিতে ডুবে যাওয়ায় অনেক জায়গায় গবাদিপশুর খাদ্যের অভাব দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুর রহিম জানান, জেলার বন্যা পাঁচ উপজেলায় নগদ ১ লাখ করে টাকা ও ১০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আমাদের কাছে ৫০০ মেট্রিক টন চাল মজুত রয়েছে। পর্যায়ক্রমে মজুতকৃত চাল পানিবন্দীদের মাঝে বিতরণ করা হবে।