শাবিপ্রবি প্রতিনিধি

জনপ্রিয় কথা সাহিত্যিক ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল শিক্ষার্থীদের লিডারশীপ কোয়ালিটি নিয়ে বলেন, ‘শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন শিক্ষার্থী যে সাবজেক্টেই ভর্তি হোক না কেন, সে এখান থেকে পাস করার পর একজন লিডার হবে। সে যেখানেই যাবে সেখানেই লিড দিবে। যদি সে এটা না করে, তাহলে আমি মনে করি, সে তার কাজ করেনি। আমরা যা শিখিয়েছি, তা সে শিখেনি। তাকে শিখতে হবে, তার আগ্রহ থাকতে হবে।

বুধবার বিকেলে সমসাময়িক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলাপকালে দৈনিক দেশ রূপান্তরকে এসব কথা বলেন তিনি।

শিক্ষকদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ কিছু শিক্ষক ঠিক করে পড়ায় না, শিক্ষকদের মাঝে ইন্টার্নাল পলিটিক্স আছে এই জিনিসটা আমি জানি। এবং আমি এ বিষয়ের সাথে সম্পূর্ণ একমত। আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকার সময়ে এগুলোর বিরুদ্ধে আজীবন ফাইট করেছি। যাতে শিক্ষকরা শিক্ষার্থী বান্ধব হয়। এগুলো থাকবে, এজন্য শিক্ষার্থীরা হাল ছেড়ে দিবে, এটা ঠিক না।’

তিনি বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা ক্লাস রুম থেকে যা শিখতে পারে তার চেয়ে বেশি শিখতে পারে শ্রেণী কক্ষের বাইরে। বিশ্ববিদ্যালয়ের চার বছরের জীবনে বিভিন্ন সমস্যায় পড়েন তারা। আবার সে সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসার পথও খোঁজে বের করেন তারা। এছাড়া বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সহ-শিক্ষামূলক কর্মকান্ডগুলো থেকে বেশি শিখতে পারেন আমাদের শিক্ষার্থীরা। এ শিক্ষার মাধ্যম তারা একজন প্রকৃত মানুষ হয়ে উঠেন।

শিক্ষার্থীদের ফেসবুক ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি একটা বিষয় লক্ষ করলাম। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি মনোযোগ কমে গিয়েছে। তারা ফেসবুকে বেশি সময় ব্যয় করছে। এটা শুধু বাংলাদেশে না, পুরো পৃথিবীর একটা বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষার্থীদের মনে রাখতে হবে, তারা যেন এটা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত না হয়। শিক্ষার্থীদের ফেসবুকে কম সময় দিয়ে বই পড়ার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষার ধারণা প্রথম নিয়ে আসেন অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা একবার পরীক্ষা দিয়ে ২০ টা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন করছে। এটা নিসন্দেহে শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকদের দুর্ভোগ লাগব করছে। প্রথমবারের মতো এই পরীক্ষা হওয়ায় ছোট খাট কিছু সমস্যা হয়েছে। তবে সামনে এগুলো থাকবে না বলে আশা করেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন সময়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সবকিছু আমার প্রিয়। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে কাটানো সময়গুলোকে মিস করি। আমি বর্তমানে অবসরে আছি। আমার অবসরকালীন সময় ভালোই কাটছে। আমি যেহেতু লেখালেখি করি এই দিকে বেশি সময় কেটে যায়।