থার্ডআই ডেস্ক:
উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও টানা বর্ষণে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বাসাইলে বন্যা পরিস্থিতির ক্রমশ অবনতি হচ্ছে। প্রায় ৩০টি গ্রামের অন্তত ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন বাড়ছে নদ-নদীর পানি। বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ঝিনাই ও বংশাই নদীর পানি।
নদীর বাঁধ ও তীর ছাপিয়ে পানি প্রবেশ করছে লোকালয়ে। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে ভাঙন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে বহু স্থাপনা নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা।
বন্যাকবলিত এলাকার গ্রামীণ কাঁচা-পাকা সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় উপজেলার প্রায় ৩০টি গ্রামের অন্তত ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। বানভাসি মানুষগুলো গবাদিপশু নিয়ে পড়েছেন মহাবিপাকে।
পানিতে নিমজ্জিত হয়ে গেছে বীজতলা, রোপা আমন ধান, বোনা আমন ও সবজি খেত। ভেসে গেছে অধিকাংশ পুকুরের মাছ। উপজেলায় বন্যায় দুটি কালভার্ট ভেঙে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কাঁচাপাকা সড়ক।
বানভাসিদের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পারাপারের জন্য নৌকা বা কলাগাছের ভেলাই একমাত্র ভরসা।
শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে বেশ কিছু এলাকায়। বানভাসি মানুষের বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকটসহ বেড়েছে দুর্ভোগ ও পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব।
হাবলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম বলেন, আমার ইউনিয়নে প্রায় ৮-১০টি গ্রামের মানুষ পানি বন্দী হয়ে পড়েছে। এছাড়াও কাঁচা পাকা রাস্তাগুলো তলিয়ে গেছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড়বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
কাঞ্চনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ বলেন, চলতি বছরের বন্যায় উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমার ইউনিয়ন। পানি নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতি নির্ণয় করা যাবে। এখন পর্যন্ত বানভাসি এলাকায় পৌঁছায়নি ত্রাণসামগ্রী।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনজুর হোসেন বলেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে আমরা ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত রেখেছি। আমাদের নিকট ৩৩৩ নম্বরে কল করে খাদ্যসহায়তা চাইলে প্রশাসনে পক্ষ থেকে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। ত্রাণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে।




